দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের অন্তঃসত্ত্বা হাতির মৃত্যু নিয়ে বিবৃতি দিল কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রক। কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তের পর মনে করা হচ্ছে ভুল করে বারুদ ঠাসা ফল খেয়ে ফেলেছিল মা হতে চলা হাতিটি।
কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রক আরও বলেছে, বুনো শুয়োরদের উৎপাত থেকে ফসল রক্ষা করতে জঙ্গলের বাসিন্দারা বেআইনি ভাবে এই ধরনের কাজ করেন। কেন্দ্রের তরফে কেরল সরকারকে আ্যডভাইজারি পাঠিয়ে বলা হয়েছে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। ইতিমধ্যেই এক সন্দেহভাজন কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
২৩ মে কেরলের বন দফতরের আধিকারিকদের কাছে প্রথম খবর আসে। বনকর্তারা পালাক্কড় জেলার ওই জঙ্গল এলাকায় গিয়ে দেখেন একটি হাতি সেখানে ঘোরাঘুরি করছে যার মুখ ক্ষতবিক্ষত। পরের দিন দেখা যায় হাতিটি একটি জলাশয়ে নেমে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ২৭ মে মৃত্যু হয় হাতিটির।
https://twitter.com/moefcc/status/1269247066586394624?s=08
তারপর অন্তঃসত্ত্বা হাতির মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় পড়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। চাপে পড়ে যায় কেরল সরকার। বিবৃতি দিয়ে কেরলের বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, "দোষীদের শাস্তি হবেই।" রতন টাটা হাতির মৃত্যুকে 'ঠান্ডা মাথার খুন' বলে উল্লেখ করেন।
রবিবার পরিবেশমন্ত্রক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে। কেন্দ্রীয় বন দফতরের শীর্ষ সারির কর্তা সঞ্জয় কুমারের নেতৃত্বে দীর্ঘ বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বন্যপ্রাণ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো, পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট দফতরের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারপর একাধিক টুইটে পরিবেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়, "কেন্দ্রীয় সরকার নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে কেরল সরকারের সঙ্গে। তাদের বিস্তারিত অ্যাডভাইজারি নোট পাঠিয়ে বলা হয়েছে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।"
কেন্দ্রীয় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী তথা আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে বলেন, দয়া করে সোশ্যাল মিডিয়ার গুজবে কান দেবেন না।
গত কয়েকদিন আগেই কেরলের বন দফতরের কর্তারা বলেছিলেন, একটি পূর্ণ বয়স্ক হাতি দিনে গড়ে ১০০ কিলোমিটার হাঁটতে পারে। ফলে মৃত হাতিটি কোথায় ওই বারুদ ঠাসা ফল খেয়েছিল তা চিহ্নিত করা অত্যন্ত কঠিন। বেঁচে থাকা অবস্থায় কুনকি (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) হাতিও ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা হাতিটির আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে তাকে নাড়ানোই যায়নি।