দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির বিধানসভা ভোটের ফল বেরিয়ে গিয়েছে ৪৮ ঘণ্টা হয়ে গেল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে কেন্দ্র ধরে প্রার্থীদের ভোট পাওয়ার যা ছবি উঠে এসেছে তা দেখলে চোখ কপালে উঠবে অনেকেরই। দিল্লির মোট আসন ৭০টি। বিভিন্ন দল, নির্দল মিলিয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন ৬৭২ জন। এর মধ্যে ৫২৯ জন প্রার্থী তাঁদের জামানতই রাখতে পারেননি। ফলে প্রার্থী হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে যে টাকা গচ্ছিত রাখতে হয় তা ফেরত পাবেন না তাঁরা। তালিকায় রয়েছে বহু হেভিওয়েট নেতা-নেত্রীও।
দিল্লির ভোটে এবার মূল লড়াই ছিল আম আদমি পার্টি বনাম বিজেপির। তবে অনেকেরই নজর ছিল কংগ্রেসের দিকে। ২০১৫-এর ভোটে রাজধানীতে সাবেক দলের একটিও আসন ছিল না। ফলে রাজনৈতিক মহলের অনেকেরই নজর ছিল কংগ্রেস কটা পায় সেদিকে। কিন্তু আসন তো পায়ইনি, উল্টে ৬৩ জন প্রার্থীর জামানতই চলে গিয়েছে।
৬৬টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল কংগ্রেস। তার মধ্যে ৬৩টি কেন্দ্রে জামানত জব্দ হয়েছে সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীর দলের। কংগ্রেস এবার দিল্লিতে লড়েছিল রাষ্ট্রীয় জনতা দল তথা আরজেডির সঙ্গে জোট বেঁধে। আরজেডির চার প্রার্থীও জামানত খুইয়েছেন বলে কমিশনের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টিও। বহিনজির দল ৭০টি আসনের মধ্যে ৬৮টিতে প্রার্থী দিয়েছিল। কোনও আসনেই জমানত রাখতে পারেনি বিএসপি। জামানত খুইয়েছেন সিপিএম, সিপিআইয়ের প্রার্থীরাও।
এই জামানত জব্দ হওয়া তালিকায় রয়েছেন বহু হেভিওয়েট প্রার্থীও। দিল্লি কংগ্রেস সভাপতি সুভাষ চোপড়ার মেয়ে শিবানী চোপড়া কালকাজি কেন্দ্রে পেয়েছেন মাত্র ২.৫ শতাংশ ভোট। নির্বাচনে লড়েছিলেন দিল্লি বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার যোগেন্দ্র শাস্ত্রীর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা সিং। তিনি আবার দিল্লির মহিলা কংগ্রেসের সহ সভানেত্রী। তিনি ভোট পেয়েছেন ৩.৬ শতাংশ। সঙ্গম বিহার কেন্দ্র থেকে প্রাক্তন ক্রিকেটার কীর্তি আজাদের মেয়ে পুনম আজাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনিও টেনেটুনে আড়াই শতাংশ ভোটও পাননি। ভোটের ফলাফলে যেমন দেখা গিয়েছে লড়াই হয়েছে আপ আর বিজেপির মধ্যে। তেমন ভোট ভাগাভাগিতেও অন্যরা কেউই প্রায় দাঁড়াতে পারেননি।