দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০ বছর বয়সে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ( আরএসএস ) শাখায় তাঁকে ভর্তি করে দিয়েছিলেন বাবা। তারপর থেকে নিয়মিত যেতেন সঙ্ঘের শাখায়। এমনটাই জানিয়েছেন মডেল ও অভিনেতা মিলিন্দ সোমন। এই ঘটনার পর থেকেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং। তবে সেটা যদি সাঁতারের জন্য হত তাহলে অনেক বেশি খুশি হতেন বলেই জানালেন তিনি।
সম্প্রতি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া: এ মেমোয়ার’ নামক একটি বইতে নিজেই একথা জানিয়েছেন মুম্বইয়ের মডেল-অভিনেতা। সেইসঙ্গে তিনি বইতে এও লিখেছেন, আরএসএস সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমে তিনি আজকাল যা শোনেন বা পড়েন, তার সঙ্গে তাঁর শাখা-জীবনের অভিজ্ঞতার কোনও মিলই নেই। এই ঘটনা জানার পরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে তাঁর ফ্যানদের মধ্যে। কেউ তাঁর অতীতে আরএসএস থাকায় সমালোচনা করেছেন। কেউ আবার এগিয়ে এসেছেন মিলিন্দের হয়ে কথা বলতে। সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং তিনি।
এই ঘটনার পরেই একটি টুইট করেন মিলিন্দ। সেখানে তিনি লেখেন, “১০ বছর বয়সের একটা অভিজ্ঞতার জন্য ৫৪ বছর বয়সে ট্রেন্ডিং। এটা যদি সাঁতারের জন্য হত তো আরও ভাল লাগত। সেটাও একই সময়ে শুরু হয়েছিল।”
https://twitter.com/milindrunning/status/1237408758378024962?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1237408758378024962&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.ndtv.com%2Fentertainment%2Fmilind-soman-who-was-in-the-rss-at-age-10-tweeted-this-after-trending-2193580
টুইট করে মিলিন্দ সোমন এটাই বোঝাতে চাইলেন, ১০ বছর বয়সে তিনি যেমন সঙ্ঘের শাখায় যাওয়া শুরু করেছিলেন, তেমনই সেই সময়েই সাঁতার শেখাও শুরু করেন তিনি। পরবর্তীকালে জাতীয় স্তরে সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন মিলিন্দ। সেই কারণে যদি তিনি ট্রেন্ডিং হতেন তাহলে হয়তো বেশি ভাল লাগত তাঁর।
নিজের বইয়ে মিলিন্দ বলেছেন,“শাখায় গিয়ে শরীর চর্চা, যোগ ব্যায়াম, সাঁতার–এসবই করতাম সবাই মিলে। আমাদের শেখানো হতো সুষ্ঠু দেশ গঠনে সুস্থ শরীর গঠন করা কতটা জরুরি।” ওই বইতে মিলিন্দ আরও লিখেছেন, “আমার বাবা কট্টর হিন্দুত্ববাদী ছিলেন। তা নিয়ে তাঁর গর্বও ছিল। আমি বুঝতাম না এতে গর্বের কী আছে! তবে অন্যায়ও নেই।” স্পষ্ট লিখেছেন, “আরএসএসের শাখায় আমাদের ধর্ম নিয়ে কিচ্ছু বলা হতো না। হিন্দুত্বেরও পাঠ দেওয়া হয়নি কখনও। শরীর চর্চার বিষয়টিই সেখানে মুখ্য ছিল।” তিনি লিখেছেন, “আজ যখন সংবাদমাধ্যমে আরএসএস সম্পর্কে শুনি সাম্প্রদায়িক অভিযোগ, তখন আমি মেলাতে পারি না। আমার অভিজ্ঞতা কিন্তু একদম আলাদা।
তাঁর বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েছে। এখনও তাঁর শরীরের গঠন দেখলে মোহিত হন বহু তরুণ-তরুণী। বছরে অন্তত তিনটি ম্যারাথনে ছোটেন মিলিন্দ। এখনও প্রতিদিন সাড়ে তিনঘণ্টা সাঁতার তাঁর রুটিন। এহেন মিলিন্দ বইতে লিখেছেন, তাঁর শরীর গঠনের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়েছে সঙ্ঘের শাখার পরিমণ্ডল থেকেই।
তবে এই কথা জানার পরে যেভাবে তাঁর শাখার অভিজ্ঞতার জন্যই সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ট্রেন্ডিং সেটা হয়তো মোটেও ভাল লাগছে না অভিনেতার। তাই সাঁতারের প্রসঙ্গ এনেছেন তিনি।