Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
নৌকাডুবিতে ১৫ জনের মৃত্যু, বৃদ্ধার প্রাণ বাঁচাল ইনস্টা রিল, ফোনের নেশাই এনে দিল নতুন জীবন!‘ভূত বাংলা’-তে যিশু সেনগুপ্তর আয় নিয়ে হইচই! ফাঁস হল অঙ্কপদ খোয়ানোর পর এবার নিরাপত্তা! রাঘব চাড্ডার Z+ সুরক্ষা তুলে নিল পাঞ্জাব সরকার, তুঙ্গে জল্পনাফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কারTCS Case: প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর টাকার টোপ! টিসিএসের অফিসে কীভাবে টার্গেট করা হত কর্মীদের‘ফোর্স ৩’ শুটিং জোরকদমে, পুরনো চরিত্রে ফিরছেন জন— নতুন চমক কারা?'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিঙে ভিডিওবার্তা অমিত শাহেরগ্রাহকের পকেট বাঁচাতে ভারি খেসারত দিচ্ছে তেল কোম্পানিগুলি! প্রতিদিন লোকসান ১,৬০০ কোটির

নারীশিক্ষা প্রসারে উদ্যোগ, ৭ কোটি টাকা পুরস্কার জিতলেন মহারাষ্ট্রের স্কুলশিক্ষক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নারীশিক্ষা প্রসারে উদ্যোগের জন্য ‘গ্লোবাল টিচার প্রাইজ ২০২০’ জিতলেন মহারাষ্ট্রের প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক রঞ্জিতসিন ডিসালে। এই পুরস্কার বাবদ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পেয়েছেন তিনি। সেই টাকার অর্ধেক বাকি ফাইনালিস

নারীশিক্ষা প্রসারে উদ্যোগ, ৭ কোটি টাকা পুরস্কার জিতলেন মহারাষ্ট্রের স্কুলশিক্ষক

শেষ আপডেট: 3 December 2020 17:31

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নারীশিক্ষা প্রসারে উদ্যোগের জন্য ‘গ্লোবাল টিচার প্রাইজ ২০২০’ জিতলেন মহারাষ্ট্রের প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক রঞ্জিতসিন ডিসালে। এই পুরস্কার বাবদ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পেয়েছেন তিনি। সেই টাকার অর্ধেক বাকি ফাইনালিস্টদের দিতে চান ওই শিক্ষক। ৩২ বছরের রঞ্জিতসিন মহারাষ্ট্রের শোলাপুর জেলার পারিতেওয়াড়ি গ্রামের বাসিন্দা। বিশ্বের ১০ প্রতিযোগীর মধ্যে থেকে সেরা হয়েছেন তিনি। ২০১৪ সাল থেকে ভার্কে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দেওয়া হয় এই পুরস্কার। নিজের জীবিকার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকার স্বীকৃতি স্বরূপ দেওয়া হয় এই পুরস্কার। এই পুরস্কার পাওয়ার পরে রঞ্জিতসিন জানিয়েছেন, “এই কোভিড ১৯ অতিমারী আমাদের দেখিয়েছে অনেক ভাবে শিক্ষা দেওয়া যায়। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষকরা চেষ্টা করেছেন প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার। শিক্ষকরাই ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারেন। তাঁরা সবসময় দানে বিশ্বাস করেন। তাই আমি খুশি মনে আমার পুরস্কারের অর্ধেক টাকা বাকি ফাইনালিস্টদের দিতে চাই। কারণ আমি বিশ্বাস করি একসঙ্গে কাজ করলে তবেই এক উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব আমরা।” ২০০৯ সালে যখন পারিতেওয়াড়িতে জিলা পরিষদ প্রাইমারি স্কুলে রঞ্জিতসিন পড়াতে যান তখন সেখানে স্কুল বলতে একটি গোশালা ও একটি স্টোররুম ছিল। তিনি উদ্যোগ নেন বদলের। স্থানীয় ভাষায় ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন তিনি। নিজেই বইয়ের অনুবাদ করেন তিনি। সেইসঙ্গে একটি কিউআর কোডও তিনি তৈরি করেন যার মাধ্যমে পড়ুয়ারা কবিতা শুনতে, পড়ানোর ভিডিও দেখতে পাবে। তাঁর এই উদ্যোগের ফলেই সেখানকার ১০০ শতাংশ মেয়ে স্কুলে যায়। একজন নাবালিকারও বিয়ে হয় না সেখানে। রঞ্জিতসিনের স্কুলই প্রথম স্কুল যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কিউআর কোডের ব্যবস্থা হয়েছিল। এই পরিকল্পনা সরকারের সামনে পেশ করার পরে ২০১৭ সালে রাজ্যের সব স্কুলে এই বন্দোবস্ত করা হয়। ২০১৮ সালে মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক ঘোষণা করে, সব এনসিইআরটি বইয়ে কিউআর কোড থাকবে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আলোচনার জন্য ‘লেটস ক্রস দ্য বর্ডার্স’ প্রজেক্টও নিয়ে আসেন রঞ্জিতসিন। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান, প্যালেস্টাইনের সঙ্গে ইজরায়েল, ইরাকের সঙ্গে ইরান, আমেরিকার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ছাত্র-ছাত্রীদের যোগাযোগ করিয়েছেন তিনি। এই আট দেশের প্রায় ১৯ হাজার পড়ুয়াকে এই প্রজেক্টের আওতায় আনতে পেরেছেন তিনি। তাঁর এই কাজের স্বীকৃতি তিনি পেয়েছেন। পুরস্কারের উদ্যোক্তা সংগঠনের পক্ষে সানি ভার্কে জানিয়েছেন, “এই পুরস্কার মূল্য ভাগ করে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে উনি সবাইকে দানের মাহাত্ম্য বুঝিয়েছেন। আমি সবাইকে উৎসাহিত করতে চাই এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে। যাতে শিক্ষকরাও নিজেদের বক্তব্য রাখতে পারেন। কারণ বাচ্চারা বাবা-মা বা পরিবারের অন্যদের কাছে যে উত্তরগুলো পায় না সেই উত্তর তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষকদেরই থাকে।” বৃহস্পতিবার লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম থেকে ভার্চিয়াল সেরিমনির মাধ্যমে এই পুরস্কারের ঘোষণা করেন ব্রিটিশ অভিনেতা স্টিফেন ফ্রাই। ইউনেস্কোর অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর জেনারেল ফর এডুকেশন স্টেফানিয়া জিয়ান্নি জানিয়েছেন, “রঞ্জিতসিনের মতো শিক্ষকরা আরও শান্তিপূর্ণ সমাজ তৈরি করতে পারবেন। তাঁদের মতো শিক্ষকরা অসাম্য দূর করে অর্থনীতিকে উন্নত করার দিকে এগিয়ে যেতে পারবেন। তাঁরা আমাদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে পারবেন।”

```