মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্ট করায় প্রশান্ত কনোজিয়া নামের এক সাংবাদিককে শনিবার গ্রেফতার করা হয় দিল্লি থেকে। তাঁর গ্রেফতারির পরেই উত্তাল হয়ে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া। এই কাজের জন্য সবাই যোগী আদত্যনাথ সরকারের নিন্দে শুরু করেন। এমনকী এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়ার তরফেও এই ঘটনার নিন্দে করা হয়। অবশেষে ৫ দিন জেলে বন্দি থাকার পর মুক্তি পেলেন সাংবাদিক প্রশান্ত কনোজিয়া।
প্রশান্ত কানোজিয়া নামে দিল্লির ওই সাংবাদিক ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ মাস কমিউনিকেশনের প্রাক্তন ছাত্র। আগে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ ও ‘দ্য ওয়্যার’-এ সাংবাদিকতা করেন। নিজের ফেসবুক-টুইটারে বিভিন্ন সময়েই নানা রাজনৈতিক পোস্ট করতেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে এক মহিলার সাক্ষাৎকারের ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। যেখানে দেখা গেছে, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর অফিসের বাইরে ওই মহিলাকে ঘিরে ধরেছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। সাংবাদিকদের থেকে উড়ে আসছে একের পর এক প্রশ্ন। আর মহিলা অকপটে বলে যাচ্ছেন, যে তিনি যোগী আদিত্যনাথকে বিয়ে করতে চান। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাবও নাকি তিনি দিয়েছেন।
এরই জেরে গ্রেফতার করা হয় ২৬ বছরের তরুণ সাংবাদিক প্রশান্ত। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ আইপিসি-র ৫০০ ধারায় ও ইনফরমেশন টেকনোলজি আইনের ৬৬ ধারায় অভিযোগ আনে। বলা হয়, প্রশান্ত কানোজিয়া মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মানহানি হয় এমন মন্তব্য করেছেন ও মুখ্যমন্ত্রীর ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতে চেয়েছেন।
প্রশান্তের স্ত্রী জগীশা অরোরা সংবাদমাধ্যমকে জানান, শনিবার সকালে প্রথমে একটি ফোন কল আসে প্রশান্তের এক বন্ধুর। সেই বন্ধু জানান, কয়েক জন প্রশান্তকে খুঁজছেন। এর পরেই দুপুরে সাদা পোশাকের দুই পুলিশ এসে প্রশান্তকে ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ তাঁর স্ত্রীয়ের।
তিনি আরও জানান, রাত দশটায় তাঁর সঙ্গে প্রশান্তের ফোনে কথা বলিয়ে দেন এক পুলিশ আধিকারিক। প্রশান্ত সেই ফোনে জানান, তিনি ঠিক আছেন। জগীশাও যেন ঠিক থাকেন। প্রশান্ত আরও বলেন, রবিবারও তাঁকে জেলেই থাকতে হবে।
গতকাল সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, শিগগির মুক্তি দিতে হবে প্রশান্তকে। দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, উত্তরপ্রদেশ সরকার প্রশান্তের করা এই টুইট জাতিবিদ্বেষী বলে যে অভিযোগ করেছে, তা মিথ্যে। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, "আমরা এই টুইটকে সমর্থন না করলেও মানুষের বাক স্বাধীনতাকে সমর্থন করি। তাই কাউকে এতদিন ধরে জেলে বন্ধ করে রাখা যাবে না।"
এই গ্রেফতারির পরে বিরোধীরাও সুর চড়ায়। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইট করে বলেন, "যদি প্রত্যেক সাংবাদিককে বিজেপি বা আরএসএস-এর বিরুদ্ধে মুখ খোলার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়, তাহলে তো দেশে সাংবাদিকের সংখ্যা কমে যাবে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বোকার মতো কাজ করছেন। এই সাংবাদিককে দ্রুত মুক্তি দেওয়া উচিত।"