দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন হওয়ার পর থেকেই গোটা দেশে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। তার উপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ যখন জানিয়েছেন যে গোটা দেশেই জাতীয় নাগরিক পঞ্জি তথা এনআরসি বলবৎ হবে তখন আরও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। কারণ, অসমের এনআরসিতে দেখা গিয়েছে ১২ লক্ষ হিন্দুর নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের মধ্যে বারো আনাই জন্মসূত্রে ভারতীয়। সরকারের অনেকের মতে সেই বিষয়টিকে সামনে এনে বিরোধীরা কৌশলেই আরও বিভ্রান্তি তৈরি করে দিতে তৎপর। তাতে বিক্ষোভের আগুন ছড়াচ্ছে।
এই অবস্থায় শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে বিশদে এনআরসি নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হল। যদিও সরকারি ভাবে কোনও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। তবে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা ঘরোয়া ভাবে গোটা বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা জানাচ্ছেন, অসমের নাগরিক পঞ্জির সঙ্গে গোটা দেশের নাগরিক পঞ্জির কোনও মিল নেই। কারণ, অসমে এনআরসি হচ্ছে অসম অ্যাকর্ড তথা চুক্তির ভিত্তিতে। তাতে ১৯৭১ সালকে কাট-অফ ডেট হিসাবে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ তার আগে যাঁরা অসমে ছিলেন তাঁদের নাগরিক হিসাবে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু সর্বভারতীয় নাগরিক পঞ্জি হবে নাগরিকত্ব আইনের ভিত্তিতে। সেখানে জন্মসূত্রে ভারতীয়দের নাগরিকত্বের অধিকার প্রাকৃতিক নিয়মেই সুরক্ষিত থাকবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা এও জানাচ্ছেন, এমন নয় যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ, পারসি, খ্রীষ্টানরা ভারতেই এলেই নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন। তাঁদের উপরে যে নিগ্রহ হয়েছে, তাঁরা যে সে দেশে বিপন্ন তাও এক প্রকার প্রমাণ করে দেখাতে হবে। তবে কী ভাবে তাঁরা তা প্রমাণ করবেন, তার শর্ত কী হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। নাগরিকত্ব আইনের অধীনে সেই সব নিয়মাবলী ও শর্ত চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। একটা প্রস্তাব হল, তাঁদের কাছ থেকে একটা এভিডেভিট চেয়ে নেওয়া।