এফআইআর-এর একদিন পরেই ছন্দা কোছর মামলার তদন্তকারী অফিসারকে বদলি, তথ্য ফাঁসের সন্দেহে তদন্তের নির্দেশ সিবিআইয়ের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার দায়ের করা হয়েছিল এফআইআর। আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের প্রাক্তন সিইও ছন্দা কোছর, তাঁর স্বামী দীপক কোছর ও ভিডিওকন কোম্পানির কর্ণধার বেণুগোপাল ধুতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের পর ২৪ ঘণ্টা না কাটতেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এই মামলায়
শেষ আপডেট: 27 January 2019 09:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার দায়ের করা হয়েছিল এফআইআর। আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের প্রাক্তন সিইও ছন্দা কোছর, তাঁর স্বামী দীপক কোছর ও ভিডিওকন কোম্পানির কর্ণধার বেণুগোপাল ধুতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের পর ২৪ ঘণ্টা না কাটতেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এই মামলায় সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসারকে।
জানা গিয়েছে, এই মামলায় যুক্ত থাকা ব্যাঙ্ক ও সিকিউরিটিজ দুর্নীতি দমনকারী সেলের অফিসার সুধাংশু ধর মিশ্রকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে রাঁচির ইকনমিক অফেন্সেস শাখায় বদলি করা হয়েছে বলে খবর। আর এই বদলির খবর পাওয়ার পরেই কংগ্রেসের অভিযোগ, বারবার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তের কাজে নাক গলাচ্ছে কেন্দ্র। বিজেপির স্বার্থ অনুযায়ী সিবিআইকে চলতে বাধ্য করা হচ্ছে। যখন বিরোধী দলের নেতাদের বাড়িতে সিবিআই হানা হচ্ছে, কিংবা সিবিআই আটক করছে, তখন কিছু বলছেন না বিজেপি নেতারা। কিন্তু যখন ছন্দা কোছরের মতো কারও বিরুদ্ধে সিবিআই এফআইআর করছে তখন অরুণ জেটলিকেও বলতে শোনা যাচ্ছে, 'সিবিআই বাড়াবাড়ি করছে'। জেটলির এমন মন্তব্যে রাজ্যসভার সাংসদ আনন্দ শর্মা বলেন, তদন্তের গতি ধীর করতেই হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন জেটলি। ইচ্ছা করেই তদন্তের গতি কমিয়ে দেওয়ার জন্যই সুধাংশু ধর মিশ্রকে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা।
যদিও সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থেই এই বদলি। কারণ তাঁদের মনে হয়েছে ওই তদন্তকারী অফিসারের মাধ্যমে তদন্তের তথ্য বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছিল। সুধাংশু ধর মিশ্রের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।
২০১২ সালে আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের কাছ থেকে ৩,২৫০ কোটি টাকা ঋণ নেয় ভিডিওকন গোষ্ঠী। অভিযোগ, সেই টাকা থেকেই ছন্দার স্বামী দীপক কোছরের কোম্পানি নু পাওয়ার রিনিউয়েবলসে বিনিয়োগ করেছিলেন বেণুগোপাল। ঘটনা সামনে আসতেই আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের এক হুইসলব্লোয়ার দাবি করেছিলেন, ব্যাঙ্কের ঋণ দেওয়া থেকে ব্যক্তিগত ভাবে লাভবান হয়েছেন ছন্দার স্বামী দীপক কোছর ও তাঁদের পরিবারের অন্যরা।
২০১৮ সালের মার্চ মাসেই এই ঋণকাণ্ডের তদন্তে নামে সিবিআই। তখনই বেণুগোপাল ধুত, দীপক কোছর ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়। অন্যদিকে, প্রথমে এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছিল আইসিআইসিআই। কিন্তু মে মাসে ওই ব্যাঙ্কের বোর্ড অব ডিরেক্টরস সিদ্ধান্ত নেয় যে এই অভিযোগের তদন্ত হবে। এর পরেই জুন মাস থেকে ছুটিতে চলে যান ছন্দা। সিবিআইয়ের তদন্ত আরও গতি নেয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মুম্বই ও ঔরঙ্গাবাদে নু পাওয়ার রিনিউয়েবেলসের বিভিন্ন অফিসে তল্লাশি চালান সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে ভিডিওকনের সঙ্গে একাধিক ব্যবসায় জড়িত দীপক। আর সেই ব্যবসাগুলিতেও ব্যবহার করা হয়েছে আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের থেকে নেওয়া ঋণের টাকা। সেই ঋণ পাইয়ে দিতে মদত করেছেন ছন্দা বলে অভিযোগ।