দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার সন্ধের সময় যখন শাঁখে ফু পড়ছে, একটা ভিডিও টুইট করেছেন বিজেপির মুখপাত্র তথা আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। এমনিতে মালব্য কিছু ভিডিও টুইট করলেই বিরোধী রে রে করে ওঠেন! সেটা আসল, নকল, না আধা নকল সে প্রশ্ন তোলেন।
সে যাক। এদিন তিনি যে ভিডিও টুইট করেছেন তাতে, দেখা যাচ্ছে সিপিএমের কিষাণ সভার এক নেত্রী স্লোগান তুলছেন, আর সামনে বসে থাকা মহিলা কর্মীরা তাতে গলা মেলাচ্ছেন। কী বলছেন, তিনি?
দেখা যাচ্ছে, ওই নেত্রী ধুয়ো তুলছেন, ‘দেশ বেচ কে খায়া গায়া মোদী মর যা তু’ কিংবা ‘রেল বেচকে খায়া গায়া মোদী মর যা তু’। আর তাঁর সামনে বসে থাকা মহিলারা বলছেন, ‘হায় হায় মোদী মর জা তু’।
এটাই গায়ে লেগেছে অমিত মালব্যর। তিনি বলেছেন, কৃষকদের প্রতিবাদ সভায় মহিলা যে ভাবে গান করে ‘মোদী মর যা তু’ বলছেন তা লজ্জাজনক। এ দেশের কমিউনিস্টরা শুধু কি এ সবই করতে পারে!
https://twitter.com/amitmalviya/status/1338108837149241345
সত্যিই কি লজ্জাজনক?
এ ব্যাপারে বামেরা বা অন্য কোনও বিরোধী নেতা এখনও কোনও মন্তব্য করেননি। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, রাজনীতিতে যেমন জিন্দাবাদ স্লোগান ওঠে, তেমনই ওঠে মুর্দাবাদ স্লোগানও। যাঁর বিরুদ্ধে মুর্দাবাদ ধ্বনি ওঠে, তাঁর মৃত্যু কামনা কেউ করে না। আসলে তাঁর নীতির বিরোধিতা করা হয়। এটাই রাজনীতির দস্তুর।

বাংলায় তৃণমূলের যুব নেতারা কিছুদিন ধরে মোদীর বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের প্রচার শুরু করেছেন। তাঁরা একটা স্লোগান লিখে সাদা টি শার্ট বানিয়েছেন। তাতে লেখা রয়েছে... সব বেচে দে। সেই সঙ্গে রয়েছে রেল বিমানের ছবিও।
কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতার কথায়, মুর্দাবাদ স্লোগান তো কম হল, এই যে কুশপুতুল দাহ করা হয়, সেটাও তো ওই ব্যক্তিকে পুড়িয়ে দেওয়া বোঝায় না। তাঁর নীতি বা কোনও সরকারের নীতিরই প্রতিবাদ বোঝায়। অমিত মালব্যদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সুদীর্ঘ নয়। আইটি সেলের প্রধান। বেশিরভাগ সময়েই ঘরে বসে রাজনীতি। তাই হয়তো বাস্তবের রাজনীতি থেকে দূরে বাস করেন আর ফুলের ঘায়ে মূর্চ্ছা যান।