
শেষ আপডেট: 24 February 2019 11:45
নিশানায় ছিল মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর বাড়িও। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মুড়ে ফেলা হয়েছে পেমা খান্ডুর বাড়ি। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে সামাল দিতে রুট মার্চে নেমেছেন সেনাবাহিনী। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালায় পুলিশ। সূত্রের খবর, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে এক বিক্ষোভকারীর। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্ফু জারি হয়েছে ইটানগরে। ছ' কোম্পানি ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশও আনা হয়েছে।
https://twitter.com/ANI/status/1099602592638947328
গত শুক্রবার থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে অরুণাচলে। বিজেপি সরকারের পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট (পিআরসি) দেওয়া নিয়েই অশান্তির সূত্রপাত। স্থানীয় মানুষের ধারণা সরকার বহিরাগত দু'টি উপজাতি গোষ্ঠী 'নামসাই' এবং 'চাংলাং'-কে রাজ্যে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ করে দিতে চায়। আর এর প্রতিবাদেই রাস্তায় নামে সিভিল সোসাইটি এবং ছাত্ররা। যদিও এই দুই উপজাতি গোষ্ঠী তপশিলি উপজাতির তালিকাভুক্ত। কিন্তু অরুণাচল রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়।
এই পিআরসি বাতিলের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার বন্ধ ডাকে বিক্ষুব্ধ জনতা। পাথর ছুড়ে নষ্ট করা হয়েছে অসংখ্য সরকারি গাড়ি এবং অফিস। এর মাঝেই পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে জনতার। দু'পক্ষেরই বেশ অনেকজন গুরুতর চোট পেয়েছেন বলে খবর। অন্যদিকে সূত্রের খবর, সিভিল সেক্রেটারিয়েটের অফিসে ঢুকতে গিলে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে এক বিক্ষোভকারীর।
শনিবারও পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভই ছিল ইটানগরে। নাহারলাগান স্টেশনের কাছে অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সও। বিক্ষোভকারীদের পাথরের আঘতে ২৪ জন পুলিশকর্মী সহ আহত হয়েছেন মোট ৩৫ জন। পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০টি গাড়ি পুড়িয়েছে বিক্ষোভকারীরা। যার মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু পুলিশের গাড়িও। পাথরের আঘাতে নষ্ট হয়েছে প্রায় দেড়শোরও বেশি গাড়ি। এমনকী শনিবার ইটানগর ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মঞ্চেও হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা।