দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছর আগে চোদ্দ সালে বাংলায় লোকসভা ভোট হয়েছিল পাঁচ দফায়। কিন্তু এ বার এখনও পর্যন্ত নয়াদিল্লির নির্বাচন সদন সূত্রে যা ইঙ্গিত তাতে সাত বা তারও বেশি দফায় বাংলায় ভোট করাতে পারে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, বাংলায় লোকসভা ভোটে এ বার অভূতপূর্ব কড়াকড়ি করতে পারে কমিশনের কর্তারা। সে জন্য বাইরের রাজ্য থেকে প্রচুর আইএএস ও আইপিএস কর্তাকে বাংলায় আনা হতে পারে যথাক্রমে অবজার্ভার ও পুলিশ অবজার্ভার হিসাবে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরার নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ সম্প্রতি রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে এসেছিলেন কলকাতায়। বাংলার সবকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও তখন বৈঠক করেন কমিশনের কর্তারা। ওই বৈঠকের পরেই কমিশনের নির্দেশে নিয়মমাফিক রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনে বদলি করেছে নবান্ন। সোমবার ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ করতে হবে নবান্নকে। তৃণমূল সর্বোচ্চ নেতৃত্ব মনে করছেন, এর পর ২৬ তারিখেই ভোটের ঘোষণা করে দিতে পারে নির্বাচন কমিশন। প্রসঙ্গত, গত তিনটি লোকসভা ভোটের ক্ষেত্রে মোটামুটি ভাবে মার্চ মাসের ৫ তারিখের মধ্যে ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছিল।
তবে ভোটের নির্ঘণ্ট যেদিনই ঘোষণা হোক, কমিশন সূত্রে বলা হচ্ছে, বাংলায় এ বার অবাধ ভোট করানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছে কমিশন। এমনিতেই লোকসভা ভোটে আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এ বার আগের থেকেও বেশি সিআরপিএফ মোতায়েন করা হতে পারে। কারণ, এক- ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের মতোই বাংলায় এ বার সাত দফায়, বা তার বেশি দফায় ভোট করানো হতে পারে। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে বাংলায় লোকসভা ভোটে হয়েছিল পাঁচ দফায়। ২০০৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে তিন দফায় ভোট হয়েছিল।
দ্বিতীয়ত, প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রে, স্পর্শকাতর বুথ এলাকায় ভোটের ৪৮ ঘন্টা আগে থেকে রীতিমতো ১৪৪ ধারা জারি করে দিতে পারে কমিশন। সবাই যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, এবং ভোটারকে যাতে কেউ ধমকে চমকে বুথ পর্যন্ত যাওয়া বন্ধ করতে না পারে তা সুনিশ্চিত করতে পাড়ায় পাড়ায় রুট মার্চ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তা ছাড়া প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্র পিছু একজন করে পুলিশ অবজার্ভার নিয়োগ করা হবে।
কমিশনের এক কর্তার কথায়, বাংলায় বিরোধী সব রাজনৈতিক দলের অভিযোগ যে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য পুলিশের অধীনে থাকে। ফলে বহু সময় রাজ্য পুলিশ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঠিক মতো ব্যবহার করে না। মূলত সেই কারণেই পুলিশ অবর্জাভার নিয়োগের কথা ভাবা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইভিএমে কারচুপির ব্যাপারে গত দেড় দু বছর ধরে জাতীয় রাজনীতিতে সরব বিরোধীরা। এমনকি এক সময়ে তৃণমূলও ইভিএম বাতিলের দাবি তুলেছিল। তবে কমিশন তাতে রাজি নয়। বরং ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা রাখতে ইভিএমের পাশাপাশি প্রতিটি বুথে ভিভিপ্যাট রাখা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। তা ছাড়া প্রতিবন্ধীদের ভোট দানের সুবিধা করে দেওয়া থেকে শুরু করে এ বারের ভোটের সময় বেশ কিছু অভিনব পদক্ষেপও করতে পারে নির্বাচন কমিশন।
আরও পড়ুন
https://thewall.in/news-state-ministers-mlas-may-be-made-candidates-by-mamata-banerjee-in-2019-election/