দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ করোনা সংক্রমণের পর থেকে বন্ধ রেল পরিষেবা। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরে ফের একটু একটু করে শুরু করেছে রেল পরিষেবা। চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন রুটে চলছে এই সব ট্রেন। ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে এইসব ট্রেনের সংখ্যা। এবার পুজোর আগে অন্তত ২০০টি স্পেশ্যাল ট্রেন চালানো হবে বলে জানিয়েছে রেলমন্ত্রক।
রেলবোর্ডের সিইও বিনোদকুমার যাদব জানিয়েছেন, আগামী ১৫ থেকে ৩০ অক্টোবর অর্থাৎ দুর্গাপুজো, কালীপুজো ও দীপাবলীর মরসুমে চলবে এই ট্রেনগুলি। উৎসবের মরসুমে ট্রেনে যাত্রীদের চাহিদা অনেকটাই বাড়ে। তাই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে রেলের তরফে। তবে এখনই কোন কোন রুটে ট্রেন চলবে তার ঘোষণা করা হয়নি রেলের তরফে। জানানো হয়েছে কোন রুটে যাত্রীদের কীরকম চাহিদা রয়েছে তার উপর নির্ভর করেই এই ট্রেনের ঘোষণা করা হবে।
গতকাল রেলবোর্ডের সিইও বিনোদকুমার যাদব ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণার কথা জানান। তিনি বলেন, “রেলের সব জোনের জেনারেল ম্যানেজারদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁদের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বলেছি। আলোচনার পরে তাঁদের রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে। এরপরেই ঠিক করা হবে মোট কতগুলি ট্রেন চলবে। এছাড়া কোন রুটে কতগুলি ট্রেন চলবে সেটিও ঠিক করা হবে। তবে এখনও পর্যন্ত আমরা ঠিক করেছি অন্তত ২০০টি ট্রেন চালানো হবে। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”
রেলবোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, কোথায় কীরকম করোনা পরিস্থিতি রয়েছে বা কোথায় কোন রুটে যাত্রীর কীরকম চাহিদা রয়েছে তার উপর নির্ভর করেই এই ট্রেনের ঘোষণা করা হবে। অবশ্য সব রাজ্যের প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তাদের কী চাহিদা সেই নিয়েও আলোচনা করা হচ্ছে। সব কিছু ঠিক করে তবেই ট্রেনের ঘোষণা করা হবে।
বিনোদকুমার যাদব জানিয়েছেন, কোন রুটে টিকিটের কীরকম চাহিদা রয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। যেখানে যাত্রীদের চাপ বেশি সেখানে বেশি ক্লোন ট্রেন চালানো হবে। কোনও যাত্রীকেই যাতে ওয়েটিং লিস্টে থাকতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। প্রয়োজন পড়লে একই রুটে একাধিক ক্লোন ট্রেন চালানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের ফলে দীর্ঘদিন ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকার পরে মে মাস থেকে ফের একটু একটু করে তা চালু হয়। লকডাউনের মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার জন্য শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেন চালায় রেলমন্ত্রক। তবে ১২ মে থেকে প্রথম পর্যায়ে ১৫ জোড়া অর্থাৎ ৩০টি ট্রেন চালায় রেলমন্ত্রক। তারপরে ১ জুন থেকে আরও ১০০ জোড়া অর্থাৎ ২০০টি ট্রেন চালু হয়। ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়ানো হয় আরও ৪০ জোড়া অর্থাৎ ৮০টি স্পেশ্যাল প্যাসেঞ্জার ট্রেন। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ জোড়া অর্থাৎ ৪০টি ক্লোন ট্রেন চালানো হয়। এবার উৎসবের মধ্যে ফের স্পেশ্যাল ট্রেন আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল রেলমন্ত্রক।