দ্য ওয়াল ব্যুরো: খিদিরপুরে একই বাড়িতে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে তিন ভাই-বোনের। তদন্তে নেমে ধন্দে পড়েছিল লালবাজারের হোমিসাইড শাখার গোয়েন্দারাও। তবে ধীরে ধীরে ফাঁস হচ্ছে এই মৃত্যুর রহস্য।
ফরেন্সিক দল জানিয়েছেন, গোটা বাড়ির জানলা-দরজায় লাগানো ছিল প্লাস্টিক। ফলে আলো-বাতাস ঢোকার কোনও রাস্তাই ছিল না। এ ছাড়াও ঘরের ভিতর মজুত ছিল প্রচুর পরিমাণ মশা মারার কয়েল। ভ্যাপসা গন্ধ আর দমবন্ধ পরিবেশের মধ্যেই ঘরে ছিলেন দুই ভাই এবং বোন। এমনকী প্রায় ৭২ ঘণ্টা ধরে বাড়িতে কারেন্ট ছিল না বলেও জানিয়েছেন তদন্তকারী গোয়েন্দারা। ঘরের মধ্যে ছিল ২২০ ভোল্টের একটি জেনারেটর। দুটো বেডরুম এবং একটা ড্রয়িং রুমের কোনওটাতেই আলো-বাতাস ঢোকার কোনও জায়গা ছিল না। সব দেখে শুনে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান সম্ভবত বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়েই মারা গিয়েছেন খিদিরপুরের 49/5/H/146 কার্ল মার্ক্স সরণির বাসিন্দা শান্তি গুপ্তা, ত্রিলোকীপ্রসাদ গুপ্তা (৫৮) এবং ভোলাপ্রসাদ গুপ্তা (৫৩)।
শুক্রবার সকালেই খিদিরপুরের এই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ত্রিলোকীপ্রসাদ এবং ভোলাপ্রসাদ-------দুই ভাইয়ের পচাগলা দেহ। অসুস্থ অবস্থায় শান্তিদেবীকে উদ্ধার করে এসএসকেএম-এ নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার মিটার বক্সে আগুন লাগায় বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এরপর জেনারেটর ভাড়া করেই বাড়িতে কারেন্ট আনা হয়েছিল। তদন্তকারী অফিসারদের অনুমান, সম্ভবত ওই জেনারেটর থেকে কার্বন মনোক্সাইড ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। তার সঙ্গে ছিল মশা মারার ধূপের বিষাক্ত ধোঁয়া। বাড়ির সব দরজা-জানলা বন্ধ থাকায় ধোঁয়া বেরনোর কোনও ব্যবস্থা ছিল না। ফলে দমবন্ধ হয়েই মৃত্যু হয়েছে এই তিন ভাইবোনের। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে তবেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী গোয়েন্দারা।