
শেষ আপডেট: 1 June 2019 06:56
শনিবার সকালে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়েতে একটি স্করপিও গাড়িকে আটক করে পুলিশ। তারপর গাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর এই চারটি প্রাণীকে উদ্ধার করা হয়। গাড়িতে বাজার করা ব্যাগের মধ্যে ভরে মুখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এই সিংহ শাবক ও তিনটি ওয়াইড হেডেড লঙ্গুরকে।
বেআইনি পশু পাচারের অভিযোগে গাড়ি থেকে চালক সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের নাম ওয়াসিম রহমান ( ২৯ বছর ), ওয়াজিদ আলি ( ৩৬ বছর ) ও মহম্মদ গুলাম গউস ( ২৭ বছর )। আপাতত তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, এই প্রাণীগুলোকে বাংলাদেশ থেকে বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করিয়ে বর্ধমান হয়ে দক্ষিণ ভারতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। শুধু একবার নয়, বারবার হাত বদল হয়েছে এই চারটি প্রাণী। কেউ কারও ব্যাপারে কিছু জানতো না। যার কাছে প্রাণীগুলি থাকতো, তাঁকে ফোন করে বলে দেওয়া হতো কোথায় কাকে দিতে হবে। এভাবে চলতো এই পাচার। ধৃতদের জেরা করে আরও কিছু জানা যায় কিনা, তার চেষ্টা করছে পুলিশ।
এই গ্রেফতারির পর ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোর ইনস্পেক্টর অর্ণব বসু জানিয়েছেন, "একটা যৌথ উদ্যোগে উদ্ধার হলো। আমরা আগেই খবর পেয়েছিলাম। বাংলাদেশ থেকে এগুলো পাচার হয়ে পশ্চিম ভারতের দিকে যাচ্ছিল। বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় রাজ্যের ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল সেলের সঙ্গে যৌথভাবে আমরা ভোর সওয়া ১টা নাগাদ গাড়ি আটক করে উদ্ধার করি। ৩জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। "
সিংহশাবক ও লঙ্গুর তিনটিকে উদ্ধার করার পর পশু চিকিৎসক কল্যাণ চক্রবর্তী সেখানে যান। তিনি তাদের পরীক্ষা করে ওআরএস ও সামান্য খাবার দিতে বলেছেন। তিনি বলেন, "মুখ বন্ধ করে ব্যাগের মধ্যে ভরে নিয়ে যাওয়ার জন্য আঘাত লেগে ক্ষত হয়েছে। সবার শরীরেই অল্পবিস্তর ক্ষত রয়েছে। প্রাণীগুলি ভয়ের মধ্যেও রয়েছে। চিকিৎসা করলে ঠিক হয়ে যাবে।"