
শেষ আপডেট: 8 October 2018 07:07
এই গাছের চাষ হয় মূলত পুর্ব আফ্রিকার সোমালিয়া আর ইথিওপিয়ায়। সেখান থেকে মধ্য প্রাচ্য হয়ে ছড়িয়ে যায় দক্ষিণ এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকায়। বেশিরভাগ খাট সেবনকারীরা এই গাছের পাতাকে সরাসরি চিবিয়ে বা চা-এর মতো ফুটিয়ে খান।
আন্তর্জাতিক ভাবে খাট কিন্তু সি ক্যাটাগরির মাদক। রাষ্ট্রসংঘের Drugs and Crime (UNODC))-এর এক রিপোর্টে থেকে জানা যাচ্ছে, বিশ্বের প্রায় ১১০টি দেশ 'খাট'কে মাদক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এবং সেই সব দেশে খাটের আমদানি নিষিদ্ধ করেছে।
এই গুল্মটির পাতা দেখতে একেবারে চা গাছের পাতার মতো। বিশেষজ্ঞের চোখ ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়। তাই এই নেশার জিনিসটি পাচার করা খুব সহজ। 'খাট'-এর ভেতর থাকে এক ধরনের অ্যালকালয়েড, নাম ক্যাথিনোন। এটি শরীরে কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রভাব ফেলে।
খাট-এর নেশা করলে নিজের ওপর নেশাড়ু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মেজাজ ফুরফুরে হয়ে যায় বলে প্রচুর অর্থহীন কথা বলেন, হাসে, লাফান। কেউ কেউ আবার চুপচাপ হয়ে যান। খাট-এর নেশা বেশিদিন করলে ঘুম কমে যায়, তীব্র মানসিক দুশ্চিন্তা গ্রাস করে। দাঁত ও মাড়ির ক্যানসার হয়। যৌন ক্ষমতা হ্রাস পায়।
গতবছর বাংলাদেশের বিমানবন্দরে আড়াই কোটি টাকা মুল্যের ২৫০০ কেজির বেশি 'খাট' ধরা পড়ে। ইথিওপিয়া থেকে যা গ্রিন টি নামে সেই দেশে আনা হয়েছিল। ভারতে মাদকবিরোধী প্রচারের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত তাঁদের আশঙ্কা, গ্রিন টি-র নাম করে সীমান্ত পেরিয়ে 'খাট'-এর ভারতে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।