দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে তিন সপ্তাহের জন্য জারি হয়েছে লকডাউন। জরুরিভিত্তিক পরিষেবা ছাড়া বন্ধ রয়েছে সবকিছুই। সংক্রমণ যাতে আর না ছড়াতে পারে সেজন্য জনসাধারণকে বাড়ি থেকে না বেরনোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সারা দেশেই চলছে এক টালমাটাল অবস্থা।
কিন্তু এই দোলাচলের মাঝেই উত্তরপ্রদেশের এক যুবকের ভীষণ ইচ্ছে হয়েছিল যে তিনি শিঙারা খাবেন। যুবকের শিঙাড়া খাওয়ার ইচ্ছে এতই প্রবল ছিল যে সটান জেলাশাসকের অফিসে ফোন করে বসেন তিনি। রীতিমতো হুকুমের সুরে বলেন তাড়াতাড়ি যেন চারটে শিঙাড়া তাঁর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশের রামপুর জেলার। শিঙাড়া চেয়ে বারবার রামপুরের জেলাশাসকের অফিসে ফোন করেছিলেন ওই যুবক। বহুবার তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। এমনকি দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কথাও বলা হয়। কিন্তু তাতে কী। দেশের টালমাটাল অবস্থা, করোনাভাইরাসের আতঙ্ক কোনওকিছুই যুবকের শিঙাড়া খাওয়ার বাসনাকে দমাতে পারেনি। কার্যত গোঁ ধরে বসেছিলেন ওই যুবক। দাবি একটাই, যেভাবেই হোক শিঙাড়া খেতেই হবে।
https://twitter.com/DeoRampur/status/1244267330613342208
ফোনের ঠ্যালায় অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত দফতরের কর্মীদের দিয়ে যুবকের বাড়িতে চারখানা শিঙাড়া পাঠানোর ব্যবস্থা করেন রামপুরের জেলাশাসক। তবে এখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি। দেশের এমন পরিস্থিতিতে এ হেন আচরণের জন্য যুবককে উচিত শিক্ষাও দিয়েছেন তিনি। বারবার ডিএম-এর অফিসে ফোন করে শিঙাড়া খেতে চাওয়ার খেসারত হিসেবে ওই যুবককে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করানো হয়েছে। নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে ওই যুবকের ড্রেন পরিষ্কার করার ছবিও শেয়ার করেছেন রামপুর জেলার ডিএম।
টুইটারে ওইসিব ছবি প্রকাশ করে রামপুরের জেলাশাসক লিখেছেন, “বারবার ফোন করে চারটে শিঙাড়া চাই বলে বিরক্ত করছিল এই যুবক। অগত্যা পাঠাতেই হয়েছে। কিন্তু এমন অদ্ভুত দাবি জানিয়ে বারবার কন্ট্রোল রুমে ফোন করে সকলকে বিরক্ত করা ওই যুবককে দিয়ে সামাজিক কাজকর্ম করানো হয়েছে। ড্রেন পরিষ্কার করতে হয়েছে ওই যুবক।“ আর একটি টুইটে রামপুরের জেলাশাসক জনসাধারণের উদ্দেশে লিখেছেন, “আপনারাও এমন সামাজিক কাজকর্ম করে দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে পুলিশকে সহায়তা করতে পারেন। দায়িত্ববান নাগরিকের মত আচরণ করুন। সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন।“
https://twitter.com/DeoRampur/status/1244294522395168768
কন্ট্রোল রুমে ফোন করে মজা করার শাস্তি যে এভাবে পেতে হবে তা বোধহয় ভাবেননি ওই যুবক নিজেও। যদিও রামপুরের জেলাশাসকের এই ব্যবস্থা নেওয়া দেখে খুশিই হয়েছেন টুইটারিয়ানরা। অনেকেই বলেছেন, “যেমন কাজ করেছে তার উচিত শিক্ষা পেয়েছে।“
ইতিমধ্যেই ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১১৯২ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৯ জনের।