দিল্লির স্টেডিয়ামে অস্থায়ী জেলখানা! অনুমতি চেয়ে চিঠি লিখেছিল রাজধানীর পুলিশ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার ভোট। তার আগে বৃহস্পতিবার একটি চিঠি নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়াল রাজধানী দিল্লিতে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে লেখা দিল্লি পুলিশের একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পরই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
গত ২৯ জানুয়ারি দিল
শেষ আপডেট: 6 February 2020 14:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার ভোট। তার আগে বৃহস্পতিবার একটি চিঠি নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়াল রাজধানী দিল্লিতে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে লেখা দিল্লি পুলিশের একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পরই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
গত ২৯ জানুয়ারি দিল্লি পুলিশের তরফে তরফে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রিন্সিপাল সচিবকে একটি চিঠি লেখা হয়। তাতে অনুমতি চাওয়া হয় একটি স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী জেলখানা বানানোর জন্য। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির নিজামপুরে জংলি রাম পালোয়ান স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী জেলখানা বানানোর অনুমতি চাওয়া হয়। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এই চিঠি প্রকাশ হওয়ার পরই জোর আলোচনা শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি ভোটের আগেই সিএএ বিরোধী আন্দোলনকারীদের জেলে পুরে দেবে পুলিশ?
ওই চিঠিতে স্পষ্ট করে শাহিনবাগের নাম উল্লেখ করে লেখা হয়, সেখানকার জমায়েত থেকে প্রতিদিন সংবিধান বিরোধী এবং হিংসা ছড়ানোর উস্কানিমূলক বক্তৃতা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় ওই চিঠিতে। চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয় আরও সরকারি দফতরকে। দিল্লির লেফটেন্যান্ট রাজ্যপালকেও এই চিঠি পাঠানো হয়।

তবে বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট করে বলে, এই চিঠি লেখা হয়েছিল ৩০ জানুয়ারির কর্মসূচির জন্য। এখন আর এই চিঠির কোনও গুরুত্ব নেই। যদিও ওই চিঠিতে কোথাও সুনির্দিষ্ট করে ৩০ জানুয়ারির জন্য অস্থায়ী জেলখানার কথা উল্লেখ নেই।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ৩০ জানুয়ারি কী এমন ছিল, যার জন্য রাজধানীর পুলিশকে অস্থায়ী জেলখানা বানাতে একটি আস্ত স্টেডিয়াম নেওয়ার কথা ভাবতে হল? পুলিশ জানিয়েছে, ওইদিন বিক্ষোভকারীরা শাহিনবাগ থেকে রাজঘাট পর্যন্ত মানবশৃঙ্খল তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল। মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুদিন উপলক্ষে ওই দিন একাধিক কর্মসূচি ছিল দিল্লিতে। কিন্তু মাঝ দুপুরের জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গুলি চালানোর ঘটনার পর বিক্ষোভ অন্য দিকে মোড় নেয়। তবে রাজধানীর পুলিশের তরফ থেকে বারবার বলা হল, ওই চিঠির আর কোনও গুরুত্বই নেই।
যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, দিল্লির পুলিশ বিজেপির ক্যাডারে পরিণত হয়েছে। এরা দিনকে রাত, রাতকে দিন করছে। ফলে এদের কোনও কথাই বিশ্বাস করা যায় না। তবে এই চিঠি প্রসঙ্গে শাহিনবাগের আন্দোলনকারীরা বলেন, জেলে ঢুকিয়েও এই আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।