
শেষ আপডেট: 24 September 2020 18:30
ভাইরাসের সংক্রমণ রক্ত কণিকাগুলির উপরেও তার প্রভাব খাটাচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, শ্বেতকণিকা শুধু নয়, করোনার সংক্রমণ হলে তার প্রভাব পড়ছে লোহিত রক্তকণিকার (Red Blood Cells) উপরেও। লোহিত কণিকার আকার ও সংখ্যায় বদল আসছে। যার কারণে শরীরে তীব্র প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন হতেও দেখা যাচ্ছে।
‘জামা নেটওয়ার্ক ওপেন (JAMA Network Open)’ সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা। বলা হয়েছে, আরএনএ ভাইরাসের সংক্রমণ হলে লোহিত রক্তকণিকার ঘনত্বে পরিবর্তন আসে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ‘রেড সেল ডিসট্রিবিউশন উইধ’ (Red Cell Distribution Width) বা আরডিডব্লিউ তার স্বাভাবিক মাত্রার থেকে বেড়ে যায়। যার কারণে ইনফ্ল্যামেশন হতে শুরু করে রোগীর শরীরে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়।
আরডিডব্লিউ টেস্টে হল রক্তে লোহিত রক্তকণিকার ঘনত্ব ও আকার পরিমাপ করা হয়। লোহিত রক্তকণিকার কাজ হল ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে দেওয়া। এই রক্তকণিকার একটা স্বাভাবিক আকার ও ঘনত্ব আছে। সাধারণত এক একটি লোহিত কণিকার আকার ৬-৮ মাইক্রোমিটার হয়। যদি দেখা যায় লোহিত কণিকা তার স্বাভাবিক আকারের চেয়ে বেড়ে গেছে বা ঘনত্বের ভারসাম্য বদলে গেছে তাহলেই ধরে নিতে হবে রোগীর শরীরে জটিল কোনও সংক্রমণ বাসা বেঁধেছে। রোগ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরডিডব্লিউ-এর মানও বদলে যাবে। সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার আরডিডব্লিউ-এর মান হল ১২.২ থেকে ১৬.১, পুরুষদের ক্ষেত্রে ১১.৮ থেকে ১৪.৫। কোভিড সংক্রামিত রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে এই মানই আড়াই গুণের বেশি বেড়ে গেছে। গবেষকরা বলছেন এমন হলে ঝুঁকির কারণ আছে। যদি দেখা যায় আরডিডব্লিউ তার স্বাভাবিক মানের চেয়ে ২.৭ গুণ বেশি, তাহলে মৃত্যুহারের সম্ভাবনাও ৩১ শতাংশ বেড়ে যাবে।
কোভিড সংক্রামিত রোগীর আরডিডব্লিউ কাউন্ট করলেই বোঝা যাবে ঝুঁকির কারণ কতটা রয়েছে। থেরাপিও হবে সেই মতোই। গবেষকরা বলছেন, রক্ত কণিকার সংখ্যা বা ঘনত্বে বদল এলে শরীরও বিপদ সঙ্কেত দিতে থাকে। সাইটোকাইন প্রোটিন এই বিপদবার্তা পৌঁছে দেয়। তবে ভাইরাসের সংক্রমণ হলে এই প্রোটিনের ক্ষরণও স্বাভাবিক মাত্রার থেকে বেড়ে যায়। বেশি প্রোটিন নিঃসৃত হলে কোষেরই ক্ষতি হয়। তখন তীব্র প্রদাহ শুরু হয় যাকে সাইটোকাইন স্টর্ম বা সাইটোকাইন ঝড় বলে। করোনা সংক্রমণে বেশিরভাগ রোগীরই এই প্রদাহজনিত রোগে মৃত্যু হচ্ছে বলেই দাবি গবেষকদের।