
নবদ্বীপে রাসের তোড়জোড়
শেষ আপডেট: 14 November 2024 18:50
কাজল বসাক, নদিয়া
জনশ্রুতি আছে যে শ্রীচৈতন্যদেব রাধাকৃষ্ণের রাস উৎসবের সূচনা করেছিলেন নবদ্বীপে। মহাপ্রভুর জন্মস্থানে তাই এই উৎসব রীতিমতো ঐতিহ্যবাহী। তবে সেই ঐতিহ্যের সঙ্গেই এখন মিশেছে আধুনিকতা। সাবেকিয়ানার গণ্ডি পেরিয়ে থিমের বাহুল্য নজরে আসছে নবদ্বীপের সর্বত্র।
শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে নবদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব। আর সেই রাস ঘিরে এখন সাজো সাজো রব নবদ্বীপে। চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান নবদ্বীপের রাস উৎসব সারা বাংলার এক ঐতিহ্যবাহী উৎসব। বৈষ্ণব ধর্মালম্বী মানুষ তো বটেই বহু দূর দুরান্ত থেকে সাধারণ ভক্তরাও ছুটে আসেন রাসের টানে। রাসলীলা বা রাসযাত্রা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি বিশেষ উৎসব। শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলার অনুকরণে বৈষ্ণবীয় ভাবধারার অনুষ্ঠিত হয় এই ধর্মীয় উৎসব।
নবদ্বীপের রাসের প্রধান বিশেষত্ব হচ্ছে মূর্তির বিশালতা। অপরূপ মৃন্ময়ী মূর্তি নির্মাণ করে নানা রূপে শক্তি আরাধনা, নবদ্বীপের রাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবে এবছর চিরাচরিত উচ্চতার ঐতিহ্য ছেড়ে থিমের দিকে ঝুঁকছে নবদ্বীপ। এক সময়ে রাস মানে ছিল পূর্ণিমার রাতে বিশুদ্ধ তন্ত্র মন্ত্রে শক্তি মূর্তির আরাধনা। কারণ নবদ্বীপের জনসমাজ ও ধর্ম-সংস্কৃতিতে বহু প্রাচীনকাল থেকেই তন্ত্রচর্চার প্রাধান্য দেখা যায়। শাক্তরাসের চাপে বৈষ্ণবীয় রাসের সাত্ত্বিক ধারাও অনেকসময় কোণঠাসা হয়েছে। এই একই দিনে মন্দিরের ভিতরে হয় রাধাকৃষ্ণের চক্ররাস হয়, তবে তার জাঁকজমক শাক্তরাসের পাশে ম্রিয়মান।
বরাবরই কোন পুজো কমিটির কত বড় প্রতিমা, তা নিয়ে চলত প্রতিযোগিতা। তবে এ বছর সেই প্রথা ভেঙে বেরিয়ে এসেছেন নবদ্বীপের একাধিক ক্লাব ও বারোয়ারি পুজো কমিটি। এবার মূর্তির পাশাপাশি থিমের মণ্ডপ সজ্জায় কে এগিয়ে তা নিয়েও শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। কোথাও তৈরি হয়েছে অ্যামাজনের অ্যানাকোন্ডার আদলে মণ্ডপ, আবার কোথাও গ্রাম বাংলার রূপ ফুটে উঠেছে। এই নতুন থিমের মণ্ডপ সজ্জা যে নবদ্বীপের রাস কে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে তা বলাই বাহুল্য।