পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ওই মৎস্যজীবীদের গ্রেফতার করে। তারা বহুবার বহু রকমভাবে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করে যে মাছ ধরতে ধরতে তারা ঘুমিয়ে পড়েছে এবং তাই তারা পাকিস্তানের সীমান্তে চলে এসেছে। কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয়নি। পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের গ্রেফতার করে এবং ৩ বছর ধরে তারা পাকিস্তানের ল্যান্ডি জেলে বন্দি।

শেষ আপডেট: 2 March 2026 16:23
প্রতীতি ঘোষ, বসিরহাট: ভোটার লিস্টে (SIR Voter list) নাম উঠেছে ছেলের। তাতেও স্বস্তি মিলছে কই! এখনও যে বাড়িই ফিরল না ঘরের ছেলে। গত তিন বছর ধরে পাকিস্তানের জেলে (Pak Jail) বন্দি লালটু দাস আর বিকাশ দাস। উৎকণ্ঠা আর দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে দুটি পরিবারের।
বসিরহাট ২ ব্লকের চাঁপাপুকুর পঞ্চায়েতের মোমিনপুরের বাসিন্দা লাল্টু আর বিকাশ। পেশায় তাঁরা মৎস্যজীবী। কাজের খোঁজে গুজরাট গিয়েছিলেন তাঁরা। একটি ঠিকাদার সংস্থার হয়ে সাগরে মাছ ধরার কাজ করতেন। বিপদ বাঁধল সেখানেই।
২০২৩ সালের পয়লা জানুয়ারি। ট্রলার নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিল ৯ জনের একটি দল। সেই দলেই ছিলেন লাল্টু আর বিকাশ। গভীর রাতে ক্লান্তিতে চোখ লেগে এসেছিল মৎস্যজীবীদের। তখনই ট্রলারটি ভাসতে ভাসতে চলে যায় পাকিস্তানের সীমানায়। আর এখানেই তৈরি হয় সমস্যা।
পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ওই মৎস্যজীবীদের গ্রেফতার করে। তারা বহুবার বহু রকমভাবে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করে যে মাছ ধরতে ধরতে তারা ঘুমিয়ে পড়েছে এবং তাই তারা পাকিস্তানের সীমান্তে চলে এসেছে। কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয়নি। পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের গ্রেফতার করে এবং ৩ বছর ধরে তারা পাকিস্তানের ল্যান্ডি জেলে বন্দি।
লাল্টু ও বিকাশ দাসের পরিবারের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরে বারবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তাতেও কোনও সুরাহা হয়নি। পাকিস্তান থেকে ছেলেদের ছাড়িয়ে আনার কোনও ব্যবস্থা হয়নি। দুটি পরিবারের কাতর আবেদন, অবিলম্বে তাদের ঘরের ছেলেদের ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।