দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমুদ্রে শক্তি প্রদর্শন সফল হল ভারতীয় নৌসেনার। করভেট গোত্রের রণতরী আইএনএস কোরা থেকে তীব্র বেগে ছুটে গিয়ে লক্ষ্যে আঘাত করল যুদ্ধজাহাজ-বিধ্বংসী মিসাইল।
বঙ্গোপসাগরে অ্যান্টি-শিপ গাইডেড মিসাইলের নিক্ষেপ সফল হয়েছে বলে টুইট করে জানিয়েছে নৌসেনা। সূত্রের খবর, সর্বোচ্চ পাল্লা অবধি ছুটে গিয়ে নিপুণ নিশানায় লক্ষ্যে আঘাত করেছে ক্ষেপণাস্ত্র।
চলতি মাসের গোড়ায় রণতরী থেকে শব্দের চেয়ে দ্রুতগামী সুপারসনিক ব্রাহ্মস মিসাইলের উৎক্ষেপণেও সাফল্য পেয়েছে ভারতীয় নৌসেনা। আরব সাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর স্টেলথ ডেস্ট্রয়ার আইএনএস চেন্নাই থেকে ছোড়া হয় ব্রাহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র। শব্দের চেয়ে দ্রুত বেগে ছুটে গিয়ে সেটি নিখুঁত নিশানায় আঘাত করে লক্ষ্যবস্তুকে।
https://twitter.com/indiannavy/status/1322070435765215232
আইএনএস কোরা হল করভেট গোত্রের যুদ্ধজাহাজ। ১৯৯৮ সাল থেকে ভারতীয় নৌসেনায় রয়েছে এই রণতরী। কেএইচ-৩৫ অ্যান্টি-শিপ মিসাইল ছোড়া যায় এই রণতরী থেকে। ৩এম-২৪ যুদ্ধজাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার প্রযুক্তিও রয়েছে আইএনএস কোরা থেকে। কোরা ক্লাসের আরও তিনটি রণতরী রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনীর—আইএনএস কির্চ, আইএনএস কুলিশ ও আইএনএস কারমুক।
গত ২৩ অক্টোবর আইএনএস প্রবাল থেকেও যুদ্ধজাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের নিক্ষেপ সফল হয়েছিল। গালওয়ান সংঘাতের পরে দক্ষিণ চিন সাগরে আরও আগ্রাসী চিনের নৌবহর। ভারতও ইতিমধ্যেই সেখানে নিজেদের রণতরী পাঠিয়েছে। চিনের হাতে এখন আছে ৫০টি সাবমেরিন। যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা তিনশোরও বেশি। আগামী দশ বছরের মধ্যে সেই সংখ্যা পাঁচশোতে গিয়ে ঠেকবে। তাই চিনের মোকাবিলায় ভারতের সামরিক ভাণ্ডারকে আরও শক্তিশালী করে তোলাই লক্ষ্য। বিশেষত সমুদ্রপথে চিনের একাধিপত্য কায়েমের চেষ্টা রুখে দিতে করভেট গোত্রের স্টিলথ যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজন নৌবাহিনীর। সম্প্রতি করভেট গোত্রের আইএনএস কাভারাত্তিকে সরকারিভাবে নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতে প্রথম ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী স্টিলথ করভেট হল আইএনএস কামোর্তো (পি-২৮)। তাছাড়াও করভেট গোত্রের আইএনএস কদমত (পি-২৯) ও আইএনএস কিলতান (পি-৩০) রয়েছে ভারতের হাতে। আইএনএস কাভারাত্তি (পি-৩১) নৌসেনায় যোগ দেওয়ার পরে করভেট গোত্রের যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা বেড়ে হল পাঁচটি।