Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
স্যালাড খেলেই সুস্বাস্থ্য নয়! ভুলেও কাঁচা খাবেন না এই ৩ সবজি, কারণ জানুনইরানকে কি অস্ত্র দিচ্ছে চিন? শি জিনপিংয়ের চিঠির পর জল্পনা ওড়ালেন ট্রাম্প'দেশু ৭'-এ অনির্বাণ, এবার ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’য় কোন নায়কের এন্ট্রিতে চমক?এখনই সুরাহা নেই! রান্নার গ্যাসের আকাল চলতে পারে আরও ৪ বছর, দুশ্চিন্তা বাড়বে ভারতের আমজনতার?লোকসভার আসন বেড়ে হচ্ছে ৮৫০, কতটা লাভ বাংলার? সবচেয়ে বেশি ও কম সিট বাড়ছে কোন রাজ্যে?নববর্ষে কলকাতা সফরে আইওসি-র শীর্ষ কর্তা, এলপিজির বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে হাজির গ্যাসের দোকানেও৮ হাজার লিটার গঙ্গাজল, গরু আর রুপোর কলসী! ফিরে দেখা জয়পুরের মহারাজার আজব লন্ডন-সফরগুয়ার্দিওলা-পরবর্তী ফুটবলের নমুনা মেলে ধরেছে কোম্পানি আমলের বায়ার্ন! আজ সামনে রিয়ালআশা ভোঁসলের শেষযাত্রায় যাননি শাহরুখ-সলমন! বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে সামনে এল আসল কারণভোটের মুখে হুগলিতে চরম অস্বস্তিতে বিজেপি! ক্ষুব্ধ স্মৃতি ইরানি মাঝপথেই ছাড়লেন শোভাযাত্রা

পেলের চেয়েও মারাদোনাকে আমার বড় মনে হয়, উনি ছিলেন ফুটবলের ধ্রুবতারা

  প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায় (লেখক প্রাক্তন ফুটবলার ও হাওড়ার সাংসদ) দিয়েগো মারাদোনা ফুটবলের ধ্রুবতারা। ১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছিলেন। আজ আর্জেন্টিনাকে চিনিয়েছেন মারাদোনা। তাঁকে নিয়ে বলতে গেলে শেষ হবে না। মারাদোন

পেলের চেয়েও মারাদোনাকে আমার বড় মনে হয়, উনি ছিলেন ফুটবলের ধ্রুবতারা

শেষ আপডেট: 26 November 2020 01:45

 

প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায়

(লেখক প্রাক্তন ফুটবলার ও হাওড়ার সাংসদ)

দিয়েগো মারাদোনা ফুটবলের ধ্রুবতারা। ১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছিলেন। আজ আর্জেন্টিনাকে চিনিয়েছেন মারাদোনা। তাঁকে নিয়ে বলতে গেলে শেষ হবে না। মারাদোনার ছিল ঐশ্বরিক শক্তি, তিনি ফুটবলের রূপকথা। আমরা খেলা শিখেছি ওঁর কাছ থেকে। আমাদের থেকে অনেক ছোট, সেটি বয়সে, কিন্তু ওঁর খেলা নিয়ে বর্ণনা মানে বিরাট ব্যাপার। মহাসাগরের মতো ওঁর ব্যাপ্তি। আমি তো মারাদোনাকে কোনও কোনও সময়ে পেলের চেয়েও বড় বলি। ফুটবলের মহাতারকা তো বটেই, ফুটবলের সন্তান ছিলেন উনি। মারাদোনাকে দেখে ভারতে আমাকে নামে ওই নামে ডাকা হতো, কী করে বলত আমি জানি না! কিন্তু খেলা ওঁর থেকে শিখেছি, কিভাবে বলকে নিয়ে টার্ন করতে হয়, কিভাবে এগোতে হয়, ওর ড্রিবলিং, সবই ছিল শেখার মতো। একটা মানুষ পুরো জাতিকে টেনেছেন, এর চেয়ে বড় কিছু হতে পারে? অনেকেই বলে , মেসি নাকি মারাদোনার মতো, আমি তা মনে করি না। মেসি দেশকে কী বিশ্বকাপ এনে দিতে পেরেছে একার কাঁধে ভর করে? আমার মনে পড়ছে, ১৯৮৬ সালে জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচ, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ জনে কাটিয়ে গোল, এসব কেউ ভুলতে পারবে না। বাঙালি তাঁর প্রতি আবেগময় বরাবর, তাঁকে ভীষণ ভালবাসে। ১৯৮২ সালে যেবার থেকে চাক্ষুস টিভিতে খেলা দেখা শুরু হল, সেই থেকেই ভারত বর্ষের মানুষ আরও বেশি করে ফুটবলের প্রতি আকৃষ্ট হল। মারাদোনার জন্যই অনেকের ফুটবল প্রেম। একটা সত্যিকারের যুগের অবসান ঘটল। অনেকেই বলবেন, তিনি তো ঘরেই বসেই থাকতেন, সেটা কোনও কথা নয়। ওরকম একজন বড়মাপের কিংবদন্তি বেঁচে রয়েছেন, এটাই বিরাট ব্যাপার। ওঁর চিন্তাভাবনা ছিল সাগরের মতো, ফুটবলের জ্ঞান নিয়ে কোনও কথা হবে না। আমি দুইবার মারাদোনাকে দেখেছি। একবার বামফ্রন্ট সরকারের আমলে এসেছিলেন মোহনবাগান মাঠে আমাদের সামনে ৩০টা বল গ্যালারিতে পাঠিয়েছিলেন। তারপর ওনাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আইটিসি হোটেলে, আমাকে দেখে মারাদোনা বললেন, বলটাকে নিয়ে কিছু করো, আমি ভাবলাম সর্বনাশ ফুটবল ঈশ্বরের সামনে আর কী করা যায়। আমি বলকে জাগলিং করলাম, দেখে উনি বললেন, তুমি খুব ভাল ফুটবলার। এত ভদ্র মানুষ, খুব সরল প্রকৃতির। তারপর নিয়ে এলেন সুজিত বসু, সেটি ২০১৮ সাল। আমরা ওর সঙ্গে খেললাম। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় পাশেই ছিল, ওই মারাদোনাকে বলল, আপনি চেনেন এনাকে? মারাদোনা বললেন, না তো? তখন সৌরভ বলেন, উনি হলেন সেনেটর। মারাদোনা শুনে খুব অবাক হয়ে গিয়েছিলেন, পরে সৌরভই বুঝিয়ে দিল, ভারতীয় ফুটবলের প্রথম কেউ যিনি সাংসদ হয়েছেন। সৌরভের টিমে আমি, মানস, শ্যাম থাপা ছিল। তারপর সেই সিনেটর প্রসঙ্গ এল, আমার তো খুব লজ্জা লাগছে একজন ওরকম মাপের মানুষের কাছে এই প্রসঙ্গ। তারপর সুজিত আমাকে অনুরোধ করল, দাদা আপনি একটা ইনসুইংগার মারুন। আমি বললাম, ওঁর মতো মানুষের সামনে বলে লাথি মারাও অন্যায়। তবুও আমি মারলাম, এখনও তো পারি। মধ্যমগ্রামের স্কুলের মাঠে ওই শট দেখে মারাদোনা বললেন, দারুণ শট। মারাদোনা তারপরেই একটা ইনসুইংগার মারলেন, মাঝমাঠ থেকে বলটা ঘুরে গেল, এখনও ওই বয়সেই ওই ম্যাজিক। আমি বললাম, আপনিই রাজা ফুটবলের। মারাদোনা বললেন, না, না আমি নয়, পেলেই শ্রেষ্ঠ। তারপর খেলা শেষে সুগারহীন লাল চা খেলাম আমরা। ভারতীয় ফুটবল দারুণ জায়গা এসব বলছিলেন, তারপর কলকুত্তা বলছিলেন, বোঝাতে চাইলেন কলকাতা শহরের কথা। আমরা ১০ মিনিট একসঙ্গে ছিলাম। আমাকে বলটা ছুঁড়ে দিয়ে কিছু একটা করতে বললেন। আমি বল জাগলিং শুরু করলাম। এখনও তো পারি এসব, অভ্যাস রয়েছে। তখন পাশ থেকে কেউ যেন বলল, উনি ভারতের এক্স ক্যাপ্টেন, শুনে মারাদোনা জানালেন, ক্যাপ্তেন। গুড, ভেরি গুড। এরকম কিংবদন্তি আমি দেখেনি। ওঁর বলের টাচ, বল ছাড়া, ১২০/৮০ মিটার ফুটবল মাঠে সবচেয়ে শৃঙ্খলাপরায়ণ মানুষ আমি দেখেনি। আমি ওরকম দেখেনি কাউকে, আমি ওঁর ব্যক্তিগত জীবনের কথা বলব না। কিন্তু ফুটবলার হিসেবে ওঁর বিকল্প কেউ নেই। সবাই বাঁপায়ে ইনসুইং মারতে পারে, মারাদোনা ওই পায়ে আউটসুইং মারতেন। ফুটবলে এরকম হয় না, উনি পারতেন। বল রিসিভিং মাখমের মতোই। আমার স্বপ্নের নায়ক। আমি দুইবার গায়ে হাত দিয়েছি, হয়তো অর্জুন পুরস্কার পাওয়া বড় ব্যাপার, কিন্তু আমার কাছে ওঁর গায়ে হাত দেওয়া বড় পুরস্কার।

```