দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইএসএলের দ্বিতীয় পর্বে রীতিমতো ছন্দে এটিকে মোহনবাগান। তাদের জয়ের ঘোড়া ছুটছে টগবগ করে। প্রথম লেগে হারের বদলা নেওয়া হল না এফসি গোয়ার। এটিকে মোহনবাগানের কাছে ফের হারতে হল তাদের।
মঙ্গলবার বাম্বোলিমে অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে এফসি গোয়াকে ২-০-য় হারিয়ে লিগ টেবলের সেরা চারে নিজেদের জায়গা আরও পাকা করল এটিকে মোহনবাগান। মনবীর সিংয়ের জোড়া গোলে টানা এগারোটি ম্যাচে অপরাজিত থাকার নজির গড়ল তারা। মনবীর এদিন হ্যাটট্রিকও পেতে পারতেন, হেলায় বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেছেন।
রয় কৃষ্ণ, ডেভিড উইলিয়ামস, হুগো বুমোসদের ছাড়াই ভারতীয় স্ট্রাইকার জুটি মনবীর ও লিস্টন কোলাসোর ভরসায় কোচ দল সাজিয়েছিলেন।
ম্যাচের তিন মিনিটের মাথায় ও দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটেই দু’টি গোল করেন মনবীর। এ দিন রয়, ডেভিডদের ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় দুই ভারতীয় ফরোয়ার্ডকে, যা দেখে খুশি হতে পারেন ভারতীয় দলের কোচ ইগর স্টিম্যাশ। তবে যে ভাবে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন এই দু’জন, তাতে অবশ্য মোটেই খুশি হবেন না সবুজ-মেরুন কোচ হুয়ান ফার্নান্দো। এই জয়ের ফলে ১৫ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট পেল তারা। শীর্ষে থাকা হায়দরাবাদ এফসি-র ১৬ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট।
মঙ্গলবার দুই দলের লাইন-আপ দেখেই বোঝা যায় এটিকে মোহনবাগান শুরু থেকে আক্রমণের ঝড় তুলবে বলেই ৪-৩-৩-তে দল সাজায়। হিরো আইএসএলে এ দিনই শততম ম্যাচ খেলতে নামেন ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্গন। ৩৪০ দিন পরে সবুজ মেরুনের প্রথম এগারোয় দেখা যায় তাঁকে।
এফসি গোয়া একটু রক্ষণাত্মক ৪-২-৩-১ ছকে শুরু করে। তবে গোয়ার রক্ষণ নিজেদের পুরোপুরি গুছিয়ে নেওয়ার আগেই সেটপিস থেকে পাওয়া গোলে এগিয়ে যায় এটিকে মোহনবাগান। মাত্র তিন মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে মাথা দিয়ে ফ্লিক করে গোলটি করেন মনবীর।
ডান দিক দিয়ে ওঠা প্রবীর দাসের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ডিলান ফক্স গোল লাইনের বাইরে বল পাঠিয়ে দেওয়ায় কর্নারটি পায় এটিকে মোহনবাগান। লিস্টন কোলাসো কর্নার কিকে প্রথম পোস্টের সামনে বল রাখেন ও মার্কারকে ধোঁকা দিয়ে সেই বল কঠিন কোণ থেকে ফ্লিক করে জালে জড়িয়ে দেন মনবীর (১-০)।
১১ মিনিটের মাথায় লিস্টনের একটি দূরপাল্লার শট তাঁর দলকে দ্বিতীয় গোল এনে দিতে পারত। কিন্তু গোলকিপার ধীরজ সিংয়ের হাতে লেগে তা সামান্য বাইরে চলে যায়।
শুরুতেই গোল খাওয়ার ধাক্কা সামলে ক্রমশ ম্যাচে ফিরে আসে এফসি গোয়া। গত ম্যাচে যারা ৫-০-য় জিতেছে, তারা সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। আলবার্তো নগুয়েরা, জর্জ ওর্টিজরা এটিকে মোহনবাগান ডিফেন্সকে বেশ চাপে রাখতে শুরু করেন। একাধিক সুযোগ তাঁরা তৈরি করার চেষ্টা করেন সমানে।
ফ্লাড লাইটের সমস্যার জন্য খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে বিপক্ষের বক্সে ঢুকে কোণাকুনি গোলমুখী শট নেন লিস্টন, যা ধীরজের হাতে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলের বাইরে বেরিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটেই অবশ্য ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় এটিকে মোহনবাগান। খেলা শুরুর পরেই মাঝমাঠে বিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের পা থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে তা মনবীরকে দেন লিস্টন। সেই বল নিয়ে অনেকটা দৌড়ে বক্সে ঢুকে গোলকিপার ধীরজ সিংকে পরাস্ত করে সোজা গোলে ঠেলে দেন মনবীর (২-০)। এই গোলের পরে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সবুজ-মেরুন শিবির। দ্বিতীয় গোলের চার মিনিট পরেই মনবীরকে হ্যাটট্রিকের সুবর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেন ধীরজ।
এটিকে মোহনবাগান দল: অমরিন্দর (গোল), তিরি, সন্দেশ, শুভাশিস, প্রীতম (অধি), প্রবীর, কাউকো (আশুতোষ মেহতা), দীপক (বিদ্যানন্দ সিং), লেনি, মনবীর (কিয়ান নাসিরি), লিস্টন(মাইকেল সুসাইরাজ)।