
শেষ আপডেট: 8 November 2023 17:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার নবান্নে ঘটনাপ্রবাহ দেখে রাজ্য প্রশাসনে কৌতূহলের স্রোত বয়ে গিয়েছিল। রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান তথা এডিজি সিআইডি রাজশেখরণকে সেদিন নবান্নের চোদ্দ তলায় ডেকে পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে ডাকা হয়েছিল মুখ্য সচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী ও আইন মন্ত্রী মলয় ঘটককেও।
রাজ্য পুলিশে যে বড় রদলবদল ঘটতে চলেছে সেই সম্ভাবনার কথা সেদিন লেখা হয়েছিল দ্য ওয়ালে। হলও তাই। রাজ্যে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তথা সিআইডি যেন ঢেলে সাজলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি (অপরাধ দমন) ছিলেন শঙ্খশুভ্র বসু। তাঁকে ডিআইজি করে আনা হল সিআইডিতে। সেই সঙ্গে আরও দুঁদে পুলিশ কর্তা রাজেশ কুমার যাদব ও অখিলেশ কুমার চতুর্বেদিকে আনা হয়েছে সিআইডিতে। রাজেশ কুমার ছিলেন উত্তরবঙ্গের আইজি এবং অখিলেশ চতুর্বেদি ছিলেন জলপাইগুড়ি অঞ্চলের আইজি। এ ছাড়াও আইপিএস অফিসার শিবপ্রসাদ পাত্র সশস্ত্র পুলিশের কমান্ডান্ট পদ থেকে তুলে এনে সিআইডি-র শিলিগুড়ি অফিসের স্পেশাল সুপারিনটেন্ডেন্ট করা হয়েছে।
একসঙ্গে সিআইডি-র উচ্চ পর্যায়ে হালফিলে এত বদল সাম্প্রতিক কালে ঘটেনি। বস্তুত সোমবার নবান্নের ধারাবাহিক বৈঠকের পর অনেকে দুয়ে দুয়ে চার করতে শুরু করেছিলেন। গত সপ্তাহে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়েও এবার তদন্ত হবে। এ ব্যাপারে হলদিয়া ও দিঘায় সরকারি জমি বিক্রির প্রসঙ্গও তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলে থাকাকালীন হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন শিশির অধিকারী। নাম না করে সম্ভবত তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সোমবারের বৈঠকে আইন মন্ত্রী মলয় ঘটকের উপস্থিতি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। অনেকের মতে, সাম্প্রতিক কালে দেখা গিয়েছে, বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তাঁরা আদালত থেকে রক্ষাকবচ পেয়ে যাচ্ছেন। হতে পারে সেই কারণেই আইনি আটঘাঁট বেধে নামতে চাইছে সরকার। সেই কারণেই রাজশেখরণ ও মলয় ঘটককে একই সঙ্গে ডাকা হয়েছে।