দ্য ওয়াল ব্যুরো : সুপ্রিম কোর্ট সিবি আই প্রধান অলোক বর্মাকে নিজের পদে ফিরিয়ে দেওয়ার পরে এক উচ্চপর্যায়ের কমিটি তাঁকে ফের সরিয়ে দেয়। সেই কমিটির সভাপতি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে ছিলেন বিচারপতি এ কে সিক্রি। বিরোধীদের পক্ষ থেকে ছিলেন কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়্গে। তিনি বর্মাকে সরানোর বিরোধী ছিলেন। এবার তিনি মোদীর উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ জানালেন, কী তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বর্মাকে তাড়িয়েছেন প্রকাশ্যে জানান। মানুষ নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে, তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া ঠিক হয়েছে কিনা।
সিবিআইয়ের অন্তর্বর্তীকালীন ডিরেক্টর হিসাবে এম নাগেশ্বর রাওকে নিয়োগ করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন খাড়্গে। তাঁর যুক্তি, নাগেশ্বর রাওয়ের নিয়োগ আইনসম্মত নয়। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে সিলেকশন কমিটি তাঁকে নিয়োগ করেছে, তাও পুরো প্রক্রিয়াটা খতিয়ে দেখেনি।
খাড়্গের মনে হয়েছে, সিলেকশন কমিটি আগেই ঠিক করে ফেলেছিল, সিবি আইতে অন্তর্বর্তীকালীন ডিরেক্টর নিয়োগ করা হবে। ১০ জানুয়ারি যখন সিলেকশন কমিটি বৈঠকে বসে, তখন নাগেশ্বর রাওয়ের নাম নিয়ে বিবেচনা করা হয়নি।
খাড়্গের দাবি, অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রী সিলেকশন কমিটির বৈঠক ডাকুন। সেখানে নতুন সিবিআই প্রধান নিয়োগ করা হোক।
তাঁর মনে হয়েছে, সরকারের কার্যকলাপ দেখে মনে হয়, তারা চায় না সিবিআইতে কোনও স্বাধীন ডিরেক্টর থাকুন। সরকারের কাজকর্মে মানুষের মনে যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে, তা দূর করা উচিত। সিভিসি রিপোর্ট, বিচারপতি এ কে পট্টনায়েকের রিপোর্ট এবং ১০ জানুয়ারি মিটিং-এর মিনিটস প্রকাশ করা হোক।
বর্মার বিরুদ্ধে সিভিসি যে তদন্ত করেছিল, তা তদারকির দায়িত্বে ছিলেন বিচারপতি পট্টনায়েক। তিনি বলেন, সিবিআইয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানা বর্মার বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন, তার পক্ষে কোনও সাক্ষী মেলেনি।
আস্থানার অভিযোগ ছিল, বর্মা হায়দরাবাদের এক ব্যবসায়ীর থেকে ২ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। বিচারপতি পট্টনায়েক বলেন, ভিজিলেন্স কমিশন বর্মা সম্পর্কে যে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে, তা সত্যি কিনা তিনি জানেন না। গত শুক্রবার বর্মা সরকারকে একটি চিঠি লেখেন। তাতে পট্টনায়েকের ওই মন্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে।
গতবছর বর্মা ও আস্থানা পরস্পরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেন। ২৩ অক্টোবর গভীর রাতে দু’জনকেই ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের পাঠানো হয় ছুটিতে। সি বি আইয়ের অন্তর্বর্তীকালীন ডিরেক্টর হন নাগেশ্বর রাও। তারপরেই কয়েকজন অফিসারকে বদলি করা হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্ত করছিলেন।