তৃণমূল সূত্রের দাবি, বিশেষ করে দাঁইহাট, কালনা, আউশগ্রাম ও কাটোয়ার মতো শহরে ভোট বাড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শহরের উন্নয়ন থমকে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছিল।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 6 November 2025 20:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে পূর্ব বর্ধমানের (East Burdwan চার পুরসভার (Four Municipality) পুরপ্রধান ও উপপুরপ্রধান পদে একযোগে বড়সড় রদবদল করল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। একই সঙ্গে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি, মাল এবং জলপাইগুড়ি পুরসভায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে বদল করা হল। কাটোয়া, কালনা, দাঁইহাট ও গুসকরা পুরসভার নেতৃত্বে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।
কাটোয়া পুরসভার পুরপ্রধান সমীর কুমার সাহাকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমলাকান্ত চক্রবর্তীকে। উপপুরপ্রধান পদে লক্ষীন্দর মণ্ডলের জায়গায় বসছেন ইউসুফা খাতুন। কালনা পুরসভার পুরপ্রধান আনন্দ দত্তের স্থানে আসছেন রিনা বন্দ্যোপাধ্যায়, যদিও উপপুরপ্রধান তপন পোড়েল পদে বহাল থাকছেন।
একইভাবে গুসকরা পুরসভার পুরপ্রধান কুশল মুখোপাধ্যায় আগের মতোই দায়িত্বে থাকছেন, কিন্তু উপপুরপ্রধান বেলি বেগমের জায়গায় আসছেন সাধনা কোনার। দাঁইহাট পুরসভার পুরপ্রধান প্রদীপ রায়ের পরিবর্তে নতুন পুরপ্রধান হচ্ছেন সমর সাহা। উপপুরপ্রধান অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় থাকছেন আগের পদেই।
পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে এই বদল করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই নতুন পুরপ্রধান ও উপপুরপ্রধানরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন।”
তবে হঠাৎ এই রদবদলের কারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা। দলীয় সূত্রের খবর, চারটি পুরসভার তিনজন পুরপ্রধানের কর্মদক্ষতা নিয়ে সন্তুষ্ট নয় রাজ্য নেতৃত্ব। লোকসভা নির্বাচনে ওই শহরগুলিতে প্রত্যাশিত ফলাফল না-আসায় ক্ষুব্ধ শীর্ষ নেতৃত্ব। সহযোগী সংস্থার পারফরম্যান্স রিপোর্টেও এই চার পুরসভা পিছিয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
দলের এক নেতার কথায়, “দীর্ঘদিন ধরেই ওই তিন চেয়ারম্যানকে নিয়ে আলোচনা চলছিল। তৃণমূল এখন শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী। নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা সকলকেই মানতে হবে। কেউ দলের বিরুদ্ধে গেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তৃণমূল সূত্রের দাবি, বিশেষ করে দাঁইহাট, কালনা, আউশগ্রাম ও কাটোয়ার মতো শহরে ভোট বাড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শহরের উন্নয়ন থমকে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছিল। তাই সংগঠনকে চাঙা করতে এবং ভোটের আগে বার্তা দিতে এই রদবদল করল তৃণমূল কংগ্রেস।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা ভোটের ফলের পর থেকেই তৃণমূলের সংগঠনে নতুন করে শৃঙ্খলা আনতে চাইছে রাজ্য নেতৃত্ব। পুরসভা থেকে জেলা—সব স্তরেই শুরু হয়েছে ‘পারফরম্যান্স রিভিউ’। এই রদবদল সেই প্রক্রিয়ারই আরেকটি অধ্যায়। ইতিমধ্যে হাওড়া-সহ কয়েকটি পুরসভায় রদবদল হয়েছে। এবার একসঙ্গে পূর্ব বর্ধমানের চারটি পুরসভায় ঝাঁকুনি দিল দল।