দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৯৪ হাজার পেরলো। দু’দিন আগেই সংখ্যাটা ছিল ৯০ হাজারের কাছাকাছি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসেবে, বুধবার একদিনেই রেকর্ড সংক্রমণ ধরা পড়ে। আক্রান্ত হন ৩ হাজার ২৫৪ জন। একদিনে ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুও অনেক বেশি, ১৪৯ জন।
সেই মার্চ থেকেই সংক্রমণের গ্রাফ ক্রমশই ঊর্ধ্বমুখী মহারাষ্ট্রে। দেশের এই রাজ্যেই ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে এখনও এগিয়ে। রাজ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে। সেখানে কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। কেন্দ্রের হিসেবে সংখ্যাটা ৫২ হাজার ৬৬৭ জন। সংক্রমণে মোট মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৭ জন।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বইতে সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৯৭ জনের, ঠাণেতে ১৫ জন, পুণেতে ১০ জন, ঔরঙ্গাবাদে ৭ জন, জলগাঁও ও নভি মুম্বই থেকে ৫ জন করে, উলহাসনগরে ৩ জন, অলোকা ও বাসাই-বিহার থেকে ২ জন করে, বিড, অমরাবতী ও গড়চিরোলি থেকে ১ জন করে কোভিড পজিটিভ রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
রাজ্যের উত্তরে নাসিক ডিভিশনে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে তিন হাজারের বেশি, মৃত্যু ২৫৩। সে তুলনায় দক্ষিণ মহারাষ্ট্রে সংক্রামিতের সংখ্যা কিছুটা হলেও কম। কোলাপুর ডিভিশন ও উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১ হাজার ৩১৩ জনের মধ্যে, মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। অন্যদিকে মধ্য মহারাষ্ট্রে ঔরঙ্গাবাদ ডিভিশনে সংক্রামিতের সংখ্যা দক্ষিণের থেকে বেশি। আক্রান্ত ২ হাজার ৬৯২ জন, মৃত্যু হয়েছে ১২৫ জনের। বিদর্ভ, আকোলা ডিভিশনে সংক্রামিত হাজারের বেশি, নাগপুর ডিভিশনে আক্রান্ত ১ হাজার ৪৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের।
করোনা আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে চিনকে ছাপিয়ে গেছে মহারাষ্ট্র। কিন্তু রাজ্যে এখনও গোষ্ঠী সংক্রমণ ঘটেনি বলেই আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে। তিনি বলেছেন, আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বেশি, তেমনি সুস্থতার হারও বেশি। মহারাষ্ট্রে এখন সেরে ওঠাদের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৫১৭। একদিনে সুস্থ হয়েছে ১৮৭৯ জন। মহারাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণের দুই হটস্পট ওরলি ও ধারাভি কিছুটা হলেও ভরসা দিয়েছে। এই দুই বস্তি এলাকাই একসময় ছিল শঙ্কার কারণ। এশিয়ার বৃহত্তম ধারাভি বস্তিতে ১০ লক্ষ মানুষের বাস। এপ্রিল থেকেই সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করেছিল। তবে গত সাতদিনের রিপোর্ট বলছে, সংক্রমণে ওই দুই বস্তি এলাকায় একটিও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ধারাভিতেও সংক্রমণ বৃদ্ধির হারও কমেছে। ওরলি এবং ধারাভিতে এখন সংক্রমণ বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ১.৯% ও ১.৭%। এই দুই এলাকায় সুস্থতার হারও বেশি। করোনা আক্রান্তদের অনেকেই সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন। সুস্থতার হার প্রায় ৫০%।