মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট কথা, "বাংলা মানুষের পাশে ছিল, আছে, থাকবে। তোমরা আমাদের জলে ভাসাও, আর আমরা জল তাড়াই। সাড়ে ৫ লক্ষ পুকুর কেটেছি বাংলায়। তাই জলটা বের করে দিতে পারি।"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 25 September 2025 18:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার মাঝরাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে ডুবে গিয়েছিল কলকাতা (Kolkata Heavy Rain)। সেই ফাঁড়া কাটিয়ে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরেছে শহর। যদিও এখনও কিছু কিছু জায়গায় জল জমে আছে। আশা করা যাচ্ছে, সেটাও হয়তো আজ কালের মধ্যেই নেমে যাবে। বিরোধীরা অবশ্য শহরের জমা জলের দুর্ভোগ, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নয় জনের প্রাণ যাওয়ার দায় ঠেলেছে সরকারের উপরই। সিপিএম হোক বা বিজেপি, কেউই ছেড়ে কথা বলছে না। সুযোগ পেলেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) থেকে শুরু করে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) নাম করে এক হাত নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউ আলিপুর সুরুচি সংঘ (Suruchi Sangha CLub) ক্লাবে এসে এবারের মতো যখন পুজো উদ্বোধন (DURGAPUJA 2025) শেষ করছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান, তখন বিরোধীদের পাল্টা জবাব দিতে ছাড়লেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, "যদি আবার ফিরে আসতে পারি, কী করতে পারি দেখিয়ে দেব।"
এদিন মমতা যখন অরূপ বিশ্বাসের ক্লাবের ফিতে কেটে, দেবীর পায়ে ফুল ছড়িয়ে মাইক হাতে নিলেন, তখনই বিরোধীদের উদ্দেশে তোপ দেগে বললেন, তারা যেন নিজেদের মুখটা আয়নায় দেখে। তারপর অন্যকে নিয়ে সমালোচনা করে। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট কথা, "বাংলা মানুষের পাশে ছিল, আছে, থাকবে। তোমরা আমাদের জলে ভাসাও, আর আমরা জল তাড়াই। সাড়ে ৫ লক্ষ পুকুর কেটেছি বাংলায়। তাই জলটা বের করে দিতে পারি।"
মমতা উপস্থিত দর্শনার্থীদের উদ্দেশে বলেন, "আগামী দিনে যদি ড্রেজিং না করে যদি আমি আপনাদের আশীর্বাদে আবার ফিরে আসতে পারি, বুঝিয়ে দেব কী করতে পারি। ওরা কিছু না করলে বিকল্প কী করা যায় দেখিয়ে দেব। আমাদের দিকে জল ঠেললে আমিও ওদের দিকে জল ঠেলে দেব। কত সহ্য করা যায়। প্রত্যেক বছর এক জিনিস।"
বস্তুত, বুধবার থেকেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছিল কলকাতা। বৃহস্পতিবার সকালে দেখা গেছে, শহরের বেশিরভাগ রাস্তাই জলমুক্ত। তবে কলকাতা পুরসভা (KMC) বলছে, কলকাতা সংলগ্ন কিছু এলাকায় এখনও জল জমে রয়েছে।
পুরসভার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আমহার্স্ট স্ট্রিট, সুকিয়া স্ট্রিট, ঠনঠনিয়ার মতো এলাকা ইতিমধ্যেই স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ইএম বাইপাস লাগোয়া এলাকা, জোকা, সরশুনার কিছু অংশ ও মেটিয়াবুরুজের একাংশে এখনও জলের তলায়। কিন্তু আশ্বাস মিলেছে, আরও বেশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেখানকার পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সোম ও মঙ্গলবার মিলিয়ে শহরে ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাতের কয়েক ঘণ্টা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। মঙ্গলবার দুপুরের পর ভারী বৃষ্টি থামতেই অনেক জায়গা থেকে জল নামতে শুরু করে। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত বালিগঞ্জ, পার্কসার্কাস, তপসিয়া, ঠনঠনিয়া, কেশবচন্দ্র সেন স্ট্রিট ও শেক্সপিয়র সরণির মতো এলাকায় জল জমে ছিল।
বৃহস্পতিবারের ছবিটা অনেকটাই বদলে গেছে। এদিন সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় জলযন্ত্রণা বাড়েনি মানুষের। যে সব জায়গায় জল জমে রয়েছে তা ধীরে ধীরে নামছেও। তাই ভোগান্তি থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দারা আগের থেকে বেশি আশ্বস্ত হচ্ছেন। তবে জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা আতঙ্কিত করেছে সকলকেই।
এই ইস্যুতে অবশ্য কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল এবং আদালত রাজ্য সরকার, কলকাতা পুরসভা এবং সিইএসসি-র থেকে রিপোর্ট তলব করেছে। নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে রিপোর্ট দিতে হবে পুরসভাকে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ - সেই সংক্রান্ত তথ্য জানাতে হবে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে।আগামী ৭ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।