দু'টি ঘটনাতেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

নেতাজিনগর থানা
শেষ আপডেট: 21 October 2025 16:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার নেতাজিনগর থানা এলাকার দু'টি পৃথক ঘটনায় দুই ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে নেতাজিনগর থানায় (Netajinagar PS) খবর আসে যে রামগড় (Ramgarh) এলাকায় একটি পুকুরে এক ব্যক্তির দেহ ভাসছে (Body Found)। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহটি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বছর পঞ্চাশের ওই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির পরনে কেবল একটি গামছা ছিল। তাঁর পরিচয় জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ (Kolkata Death)।
অন্য দিকে, একই দিনে সকালে রামগড়ের বিদ্যাসাগর কলোনি এলাকার একটি পুকুর থেকে প্রীতম চৌধুরী (৫৬) নামে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয়। জানা গিয়েছে, অবিবাহিত প্রীতম একাই থাকতেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, ভোরে দাঁত মাজতে গিয়ে কোনও ভাবে পা পিছলে পুকুরে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
দু'টি ঘটনাতেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, কালীপুজোর দিনই আলিপুরের বিদ্যাসাগর কলোনি এলাকার একটি বাড়ির আলমারি থেকে স্কুলছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। পঞ্চমশ্রেণির ওই ছাত্রীকে বাবা-মা মেরে ফেলেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার, এই স্থানীয়রাই বলছেন মৃত ছাত্রী কুখ্যাত আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar Case) যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সিভিক ভলান্টিয়ার (Civic Volunteer) সঞ্জয় রায়ের (Sanjay Rai) ভাগ্নি। মেয়েটির মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা আবার বিয়ে করেন। সংসার পাতেন সঞ্জয়েরই আর এক বোনের সঙ্গে। অর্থাৎ, মৃতার সৎমা একই সঙ্গে তাঁর মাসিও।
সোমবার সন্ধ্যায় মেয়ের সৎমা দাবি করেন, তিনি বাজারে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরে দেখেন, মেয়ে নেই। কিছুক্ষণ পর আলমারির দরজা খুলতেই দেখতে পান, ভিতরে ঝুলছে মেয়ের দেহ। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয়দের দাবি, মেয়েটি দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল। এক প্রতিবেশী বলেন, ‘‘প্রায়ই কান্নার শব্দ শুনতাম। সৎমা এবং বাবা দু’জনেই মেয়েটিকে মারধর করতেন। একদিন তো দেওয়ালে মাথা ঠুকে দেওয়া হয়েছিল।’’
আরও এক বাসিন্দা জানান, ‘‘মেয়েটির বাবাই বলেছিলেন, স্ত্রীকে অনুমতি দেওয়া আছে মেয়েকে শাসন করার।’’
মঙ্গলবার সকালে তদন্তে নামার সময় পুলিশ মৃতার বাবা ও সৎমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে। তখনই স্থানীয়রা তাঁদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান এবং পুলিশের সামনেই দম্পতিকে মারধর করেন। তাঁদের দাবি, ‘‘নিজেদের স্বার্থে মেয়েকে খুন করেছেন ওরা।’’