
সোহম চক্রবর্তী ও রেস্তোরাঁর আক্রান্ত মালিক।
শেষ আপডেট: 8 June 2024 11:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুটিং করতে গিয়ে শুক্রবার সন্ধেয় নিউটাউন সাপুরজি এলাকার একটি রেস্তোরাঁর মালিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল অভিনেতা তথা চণ্ডীপুরের তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার নিউটাউনের ওই ঘটনায় তুমুল অশান্তি ছড়ায়।
মারধরের অভিযোগ স্বীকার করে সোহম দাবি করেছিলেন, বচসা চলাকালীন হোটেল মালিক তাঁর নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কটূক্তি করেন। এতেই রেগে যান তিনি।
যদিও রেস্তোরাঁ মালিক অভিযোগ করেছিলেন, কোনও কথা না শুনেই সোহম তাঁকে প্রথমে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেন। মারধরও করা হয়। এমনকী কলার চেপে ধরে রেস্তোরাঁ তুলে দেওয়ার হুঁশিয়াারিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
এরই মাঝে শনিবার সকাল থেকে মারধরের ওই ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। ভিডিও-র সত্যতা অবশ্য দ্য ওয়াল যাচাই করেনি।
টিভি চ্যানেলে প্রকাশিত রেস্তোরাঁর ওই সময়ের ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে-বচসা চলাকালীন ধাক্কা দিয়ে রেস্তোরাঁ মালিককে মাটিতে ফেলে দেন অভিনেতা-বিধায়ক সোহম। লাথিও মারা হয়। কলার ধরে টেনে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় রেস্তোরাঁর বাইরেও।
ওই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে, রেস্তোরাঁ মালিক যদি কোনও ভুল করেও থাকে, সেক্ষেত্রে একজন বিধায়ক হিসেবে হাতে আইন তুলে নেওয়া কতটা ন্যয়সঙ্গত? এ ব্যাপারে সোহমের কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমানসে তীব্র শোরগোল তৈরি হয়েছে।
বিষয়টিকে ভাল চোখে দেখছেন না শাসকদলের নেতারাও। তাঁরা মনে করছেন, ঘটনা যাই ঘটে থাকুক না কেন, এভাবে মারধর করে হাতে আইন তুলে নেওয়া উচিত হয়নি সোহমের।
সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্য নজরকাড়া সাফল্য পেয়েছে শাসকদল তৃণমূল। ৪২টির মধ্য়ে ২৯টি আসনে জয়ী হয়েছে তাঁরা। এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের ঘটনা মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে বলেও দলের একাংশ মনে করছেন।
এদিকে ঘটনার পর বিধাননগর কমিশনারেটের টেকনোসিটি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল। রেস্তোঁরার মালিকের দাবি, তাঁকে থানার ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর পুরো ঘটনাটিতে কোনও অভিযোগ নেই বলে তাঁকে দিয়ে লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশ্নের মুখে পুলিশের ভূমিকাও। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে পুলিশের দাবি, কেউ যদি নিজে থেকে অভিযোগ না জানাতে চান, তাহলে আমাদেরই বা কী করার আছে।
শুক্রবার নিউটাউন সাপুরজি এলাকায় সোহমের শুটিং চলছিল। সেই সময়ে রেস্তোরাঁর বাইরে শুটিংয়ের অনেক গাড়ি রাখা ছিল। হোটেল মালিকের দাবি, তিনি হোটেলের সামনে থেকে অন্তত একটি গাড়ি সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেন। তখন সোহমের নিরাপত্তারক্ষীরা জানান যে বিধায়কের শুটিং চলছে, তাই আপাতত এখান থেকে কোনও গাড়ি সরবে না। এর থেকেই গোলমালের সূত্রপাত।