
শেষ আপডেট: 20 March 2024 06:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ১৪ মাস ধরে ফতেপুর ব্যানার্জি বাগান লেনে বেআইনি বহুতল তৈরির কাজ চলছিল। একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু তাও কীভাবে গার্ডেনরিচ থানার নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে খোঁজ নিতে শুরু করেছে লালবাজার। ওই এলাকায় নজরদারির দায়িত্বে থানার কোন অফিসাররা ছিলেন তা লালবাজারের তরফে জানতে চাওয়া হয়েছে।
গার্ডেনরিচে নির্মীয়মাণ বহুতল ভেঙে পড়ে ঝুপড়ির উপর। রবিবার রাতের মর্মান্তিক ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। ওই বহুতল যে নিয়ম মেনে তৈরি হচ্ছিল না, তা মেনে নিয়েছেন পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এলাকাবাসীরা এই নিয়ে প্রথম থেকেই অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন। তাও কেন পুলিশ ৪০১ (এ) কেএমসি অ্যাক্টে সুয়োমোটো মামলা রুজু করেনি, এবার তা নিয়েই টনক লড়েছে লালবাজারের। অভিযোগ, গার্ডেনরিচ থানার পূর্বতন এক ওসির আমলেই এই নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেই পুলিশ অফিসারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
১৯৮৮ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত কলকাতা পুলিশের একটি গেজেটে বলা হয়েছে, কলকাতা পুরসভা এলাকায় কোনও বেআইনি নির্মাণ, রাস্তা দখল করে বাড়ি তৈরি সহ বিল্ডিং সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ এলে থানা সংশ্লিষ্ট প্রজেক্টটির নকশা যাচাই করতে পারবে। বাড়ির মালিক কিংবা প্রোমোটারের কাছ থেকে নির্মাণের নথিপত্র যাচাই করে পুলিশকে নোটিস পাঠানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এমনকী কোনও অনিয়ম লক্ষ্য করলে পুরসভার উপর ভরসা না করে পুলিশকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।
লালবাজার সূত্রে খবর, গেজেট প্রকাশের পর বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে এই সংক্রান্ত অভিযোগ পুরসভার কোর্টে বল ঠেলতে শুরু করে পুলিশ। উল্টেদিকে, পুরসভা আবার থানায় অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ এফআইআর করছে না বলে জানায়। ফলে একে অপরের ঘাড়ে দায় চাপানোয় সুযোগ নিয়েছেন প্রোমোটাররা। শহরে গজিয়ে উঠতে থাকে একের পর বেআইনি নির্মাণ।
গার্ডেনরিচের ঘটনার পর আধিকারিকরা জানতে পারছেন, থানার একাংশ জানতেন, ফতেপুরে এই বাড়িটি ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে অবৈধভাবে তৈরি হচ্ছিল। তারপরেও স্থানীয় থানার তরফে ৪০১ (এ) কেএমসি অ্যাক্টে মামলা রুজু করা হয়নি। আইন অনুযায়ী, বেআইনি নির্মাণের খবর এলে পুলিশ নিজে থেকে মামলা রুজু করতে পারে। পুরসভার অভিযোগ বা তাদের অনুমতির জন্য অপেক্ষা না করে পুলিশের নোটিস পাঠিয়ে প্রোমাটারকে ডেকে পাঠানোর ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু গার্ডেনরিচের ঘটনায় পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি।
প্রসঙ্গত, গার্ডেনরিচের ঘটনার পরই কলকাতার বেআইনি নির্মাণ রুখতে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। কোনও নির্মাণের বৈধ নথি আছে কিনা তা দেখার জন্য থানাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। থানার অফিসারদের বলা হয়েছে, প্রত্যেকটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে হবে, সেগুলি আইন মেনে তৈরি হচ্ছে কিনা তার সম্পূর্ণ নথি দেখতে হবে। সেক্ষেত্রে পুলিশকে সাহায্য করবে কলকাতা পুরসভা। কোথাও বেআইনি নির্মাণ হলে সেই প্রোমোটারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন লালবাজারের কর্তারা।