
হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 23 December 2024 14:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিঙ্গল বেঞ্চের পর এবার ডিভিশন বেঞ্চেও হার রাজ্যের। চিকিৎসকদের অবস্থান বিক্ষোভ নিয়ে রায় বহাল রাখল ডিভিশন বেঞ্চ। কর্মসূচি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিল বিচারপতি হরিশ টন্ডন এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। চিকিৎসকদের আবেদন অনুযায়ী ১০০ জন চিকিৎসক অবস্থান স্থলে থাকতে পারবেন।
সিঙ্গল বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল ২০০-২৫০ জন প্রতিদিন ধর্নায় বসতে পারবে। সেই সংখ্যাটা কমিয়ে ১০০ জন করা হল। পাশাপাশি রাজ্যের তরফে চিকিৎসকদের প্রস্তাব দেওয়া হয় ২৫ ডিসেম্বর তাদের কর্মসূচি বন্ধ রেখে ২৭ ডিসেম্বর করতে। সে ব্যাপারে চিকিৎসকরা সম্মত কিনা সেটাও আদালতকে জানাতে হবে বলে নির্দেশ ডিভিশন বেঞ্চের।
উল্লেখ্য, ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস চলতি মাসের ২০ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত টানা দিন-রাতের ধর্নায় অনুমতি দিয়েছিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। রাজ্যের বক্তব্য, বড়দিনের ছুটির সময় কলকাতায় ভিড় হয়। সেই আবহে অন্তত ২৪, ২৫ ডিসেম্বর যেন কর্মসূচি বন্ধ রাখা হয়।
রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, ৯ অগস্টের ঘটনায় সিবিআই তদন্ত করে চার্জশিট দিয়েছে সঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে। সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে মামলা শুনছে। সিবিআই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট না দেওয়ায় আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার ওসি জামিন পেয়েছেন। তার প্রতিবাদে ডাক্তাররা ধর্না করছেন। কেন রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করে এই ধর্না হবে?'
বলা হয়, 'আন্দোলনকারীরা সিবিআইয়ের কাছে যাক। সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে নিজেদের দাবি জানাক। এখন উৎসবের সময় কেন ডোরিনা ক্রসিঙের মতো জায়গা আটকে ধর্না কর্মসূচি পালন করা হবে? সাধারণ মানুষের কি অধিকার নেই বড়দিন পালন করার? লোকজনের যাতায়াতের সমস্যা হবে কেন? যানজটের সৃষ্টি করে কেন এই সময় ধর্না?' তাই অবিলম্বে যেন সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি করে ডিভিশন বেঞ্চ সেই আর্জি জানানো হয়।
চিকিৎসক সংগঠনের পক্ষে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এর উত্তরে বলেন, 'কোথায় ট্রাফিক জ্যাম হচ্ছে? আমরা সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের রেকর্ড থেকে দেখাতে পারি কোনও ট্রাফিক সমস্যা হচ্ছে না। ২৫ ডিসেম্বর লোকজন ধর্মতলায় আসে না। পার্কস্ট্রিটে যায়। গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে দেওয়া আছে পুরো মঞ্চটা। কিছু লোক আসছে তারা দেখে চলে যাচ্ছে। বড়দিনের জন্য আলাদা করে এই ধর্না অবস্থান কোনও সমস্যাই তৈরি করছে না। শান্তিপূর্ণ ধর্না অবস্থান করা মৌলিক অধিকার নাগরিকের।'
এর পরই বিচারপতি মন্তব্য করেন, আরজি কর হাসপাতালের ঘটনা নজিরবিহীন, অকল্পনীয় এবং ভয়ঙ্কর। তার পরই সিঙ্গল বেঞ্চের আবেদন বহাল রেখে রায় দেওয়া হয়, ১০০ জন চিকিৎসককে নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে পারবে সংগঠন।