কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে— 'নিয়ম ভাঙলে শাস্তি অনিবার্য।'
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 21 November 2025 15:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিজেন্ট পার্ক থানার কুদঘাটে ম্যানহল পরিষ্কার করতে গিয়ে ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চারজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল, তিনজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন, সেই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) কঠোর মনোভাব নিল।
ন্যূনতম সুরক্ষা ছাড়া শ্রমিকদের ম্যানহলে নামানো হয়েছিল বলে পরিবারগুলির অভিযোগ, যা ২০১৩ সালের ‘প্রোহিবিশন অফ এমপ্লয়মেন্ট অ্যাজ ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জারস অ্যান্ড দেয়ার রিহ্যাবিলিটেশন’ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন (Compensation, ultimatum for death of 4 workers in manhole)। এ দিনের শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল— এমন অবহেলা আর চলবে না।
হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি চৈতালি চ্যাটার্জি দাসের ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে। প্রথমত, দুর্ঘটনায় নিহত চার শ্রমিকের প্রত্যেকের পরিবারকে অবিলম্বে যথোপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
আদালত জানিয়েছে, পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হারানোর পর যাদের জীবন থমকে গেছে, তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। শুধু নিহতরাই নন— যাঁরা ওই ভয়াবহ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন, তিনজন শ্রমিককেও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে যে আইন অনুযায়ী ম্যানহল পরিষ্কারের সময় পূর্ণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেওয়াই নয়, প্রশিক্ষিত ও যান্ত্রিক ব্যবস্থার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম লঙ্ঘনেই এই মৃত্যু।
দ্বিতীয়ত, আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— ক্ষতিপূরণ প্রদান প্রক্রিয়া যেন আর দেরি না হয়। শুনানির সময় বিচারপতিরা এও উল্লেখ করেন যে তিন মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও পরিবারগুলি ন্যায় পায়নি, যা অগ্রহণযোগ্য। তাই আদালতের নির্দেশ, আগামী তিন মাসের মধ্যেই ক্ষতিপূরণ প্রদান সম্পূর্ণ করতে হবে। কোনও অজুহাত বা প্রশাসনিক বিলম্ব আদালত গ্রহণ করবে না।
তৃতীয়ত, এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, তার জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী একটি বিশেষ কমিটি তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। শহরের ম্যানহল, নিকাশি ব্যবস্থা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর এই কমিটি নিয়মিত নজরদারি রাখবে। আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নিতে হবে তাদের।
এই সমস্ত নির্দেশ কতটা কার্যকর হলো, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আগামীদিনে কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দিতে হবে কলকাতা পুরসভাকে। কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে— 'নিয়ম ভাঙলে শাস্তি অনিবার্য।'