
শেষ আপডেট: 24 January 2024 16:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের দীর্ঘতম সমুদ্র সেতু। প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর নামাঙ্কিত, প্রায় ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ (সংযোগকারী সড়ক-সহ) অটল সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৭৮ হাজার টন ইস্পাত। ছয় লেনের এত শক্তপোক্ত সমুদ্র সেতু যে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগেও থাকবে ‘অটল’। সমুদ্রের উপর এত দীর্ঘ সেতু এ দেশে আর নেই। এহেন অটল সেতুর নির্মাণ ও ভিত গড়ার কাজে জড়িয়ে এক বাঙালি ইঞ্জিনিয়ারের নাম। বস্তুত, তিনি ও তাঁর টিমের পরিকল্পনাতেই সেতুর নকশা তৈরি হয়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১৯৯৩-’৯৭ ব্যাচের গোল্ড মেডেলজয়ী ছাত্র দীপঙ্কর চৌধুরীই অটল সেতুর ভিতের নকশা তৈরি করেছিলেন। ছ’জনের গবেষক দলকে নিয়ে তিনিই ছকে দিয়েছিলেন সেতুর ভিতের প্ল্যানটি। আর তা এতটাই মজবুত যে রিখটার স্কেলে ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্পকেও অনায়াসে হজম করে ফেলবে। দীপঙ্করবাবু বর্তমানে আইআইটি বম্বের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান। দীর্ঘদিন তিনি জেইই অ্যাডভান্সড পরীক্ষার সর্বভারতীয় সহ সভাপতিও ছিলেন। জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে গবেষণা করছেন দীপঙ্করবাবু। আর অটল সেতু তৈরিতে জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়েরই প্রয়োগ করা হয়েছে।
২১.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি তৈরিতে খরচ পড়েছে ১৭ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬.৫ কিলোমিটার পথ সমুদ্রের উপর দিয়ে যেতে হবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যাতায়াতের দূরত্ব কমাবে এই সেতু। পাশাপাশি এর গঠন ও কাঠামো খুবই মজবুতভাবে বানানো হয়েছে যাতে প্রাকৃতির দুর্যোগের মোকাবিলা করা যায়। বিশেষ করে ভূমিকম্পে এই সেতুর কোনও ক্ষয়ক্ষতি হবে না।
সেতু তৈরি করতে ১,৭৭,৯০৩ মেট্রিক টন লোহা এবং ৫,০৪, ২৫৩ মেট্রিক টন সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। সেতুতে রয়েছে ছ’টি লেন। এই সেতু নবি মুম্বই এবং মুম্বইয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে যুক্ত করেছে। মুম্বই থেকে পুণে, গোয়া এবং কর্নাটক খুব কম সময়ে যাওয়া যাবে এই সেতুর উপর দিয়ে। দেড় ঘণ্টার যাত্রার সময় কমে হবে মাত্র ২০ মিনিট।