দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতে কোভিড ১৯ ভ্যাকসিনের অনুমোদন পাওয়ার জন্য আবেদন করেছে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া, ভারত বায়োটেক এবং ফাইজার। এসম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শুক্রবারই বৈঠকে বসবেন সরকারি এক প্যানেলের বিশেষজ্ঞরা। সেরাম ইনস্টিটিউট তৈরি করেছে 'কোভিশিল্ড' নামে ভ্যাকসিন। সেই ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চের সঙ্গে যৌথভাবে 'কোভ্যাকসিন' তৈরি করেছে ভারত বায়োটেক। ফাইজার তাদের ভ্যাকসিন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার জন্য আরও সময় চেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের প্যানেল কোনও ভ্যাকসিন অনুমোদন করলে তা পাঠানো হবে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার কাছে। সেখানে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকার চায়, জানুয়ারি মাস থেকেই ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হোক।
আগামী শনিবার থেকে দেশের সব রাজ্যে শুরু হচ্ছে কোভিড ভ্যাকসিনের ড্রাই রান। ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে, শিগগির দেশে শুরু হতে চলেছে টিকাকরণ। বৃহস্পতিবার এসম্পর্কে প্রতিটি রাজ্যের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব। এই নিয়ে দেশে দ্বিতীয়বার কোভিড ভ্যাকসিনের ড্রাই রান হতে চলেছে। এর আগে ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর দেশের চার রাজ্যে ভ্যাকসিনের ড্রাই রান হয়েছিল। সেটা সফলও হয়েছে। তাই এবার সব রাজ্যেই হবে এই ড্রাই রান।
সূত্রের খবর, প্রতিটি রাজ্যে কিছু নির্বাচিত স্থানেই হবে এই ড্রাই রান। এই পদ্ধতিতে যারা অংশ নেবেন তাদের ডামি অর্থাৎ নকল কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এই ড্রান রান করার প্রধান উদ্দেশ্য হল সত্যিকারের টিকাকরণ শুরু করার আগে সব পদ্ধতি ঠিকভাবে করা যাচ্ছে কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা।
গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানায়, চার রাজ্যে দু’দিনের যে মক ড্রিল করা হয়েছে তার সাফল্য প্রমাণ করছে যে ভারত টিকাকরণ শুরু করার জন্য তৈরি। একটি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, “কোভিড ১৯ টিকাকরণ কীভাবে হবে সেই পদ্ধতির জন্য করা মক ড্রিলে অংশ নেওয়া চার রাজ্যই সন্তুষ্ট।”
এদিনই দেশের ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল ডক্টর ভি জি সোমানি জানিয়েছেন, “আমরা আশা করছি নতুন বছরে টিকাকরণ শুরু হবে।” তাই এই মুহূর্তে সব রকমের প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছে কেন্দ্র।
কোভিড আক্রান্তের সংখ্যার বিচারে বিশ্বে দু'নম্বর স্থানে আছে ভারত। সরকার স্থির করেছে, আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে ৩০ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। সেরাম ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে ভ্যাকসিনের পাঁচ কোটি ডোজ তৈরি করে ফেলেছে। আগামী মার্চের মধ্যে তারা ১০ কোটি ডোজ তৈরি করে ফেলবে।