দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ দ্বিতীয়বার বিপুলভাবে জিতে ক্ষমতায় আসার পরেই শোনা যাচ্ছিল, কর্ণাটকে যে কোনও দিন সরকার ফেলে দেওয়া হতে পারে। সোমবার শোনা গেল, রাজ্যের কংগ্রেস বিধায়ক আনন্দ সিং ইস্তফা দিয়েছেন। কংগ্রেস এখনও নির্দিষ্ট করে জানায়নি, আনন্দ সিং ইস্তফা দিয়েছেন কিনা। কিন্তু তিনি নিজে জানিয়েছেন, রাজ্যপালের কাছে গিয়ে ইস্তফা দিয়ে এসেছেন। শোনা যাচ্ছে, এর পরে আরও কয়েকজন কংগ্রেস বিধায়কও ইস্তফা দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে রাজ্যে এইচ ডি কুমারস্বামীর সরকার বিপদে পড়তে চলেছে বলেই পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
কুমারস্বামী এখন ব্যক্তিগত কাজে আমেরিকায় গিয়েছেন। কর্ণাটক বিধানসভার স্পিকার কে আর রমেশ কুমার বলেছেন, আমি কারও ইস্তফা দেওয়ার কথা জানি না। আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। এব্যাপারে আমার কিছু করার নেই। পরে তিনি বলেন, আমার কাছে যদি একসঙ্গে ২০ জন বিধায়ক ইস্তফা দিতে চান, আমি তাও গ্রহণ করব। কেউ ইস্তফা দিয়েছে বলে আমার জানা নেই। আমি কোনও নেতার সঙ্গে কথা বলিনি। আনন্দ সিং-এর সঙ্গেও আমার কথা হয়নি।
কর্ণাটক বিজেপির সূত্রে জানা গিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপরে নজর রাখছে। রাজ্যের প্রাক্তন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা বলেন, আমি মিডিয়ার সূত্রে আনন্দ সিং-এর ইস্তফার কথা জেনেছি। আমরা সরকার ফেলতে চাই না। তবে সরকার যদি নিজেই পড়ে যায়, আমরা পরবর্তী সরকার গঠনের চেষ্টা করব। নতুন করে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
কর্ণাটকে বিধানসভা ভোটের পর কংগ্রেস ও সেকুলার জনতা দলের বিধায়কদের আলাদা করে একটি রিসর্টে রাখা হয়েছিল। শোনা যায়, সেখানে আনন্দ সিং অপর এক বিধায়কের সঙ্গে মারপিটে জড়িয়ে পড়েন। তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। তখনই নাকি আনন্দ সিং দল ছাড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখনকার মতো তাঁকে বুঝিয়ে দলে থাকতে রাজি করানো হয়।
লোকসভা ভোটের ঠিক আগে উমেশ যাদব নামে এক কংগ্রেস বিধায়ক দল ছাড়েন। তিনি এবার বিজেপির টিকিটে কালবুর্গি লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছেন। তাঁর বিপক্ষে ছিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। রোশন বেগ নামে আর এক প্রবীণ কংগ্রেস বিধায়ককে গত মাসে কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কারণ তিনি প্রকাশ্যে দলের নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেছিলেন।