দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে সরকার গড়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এ কথা ঘোষণা করে দিল ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)। তারা দেখিয়ে দিল, মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে অন্য কেউ নন, চাণক্য যদি কেউ থেকে থাকেন তিনি হলেন শরদ পওয়ার। শিবসেনা সূত্রে জানা গেছে, নিজে মুখ্যমন্ত্রী পদে আগ্রহী নন উদ্ধব ঠাকরে, তিনি অন্য দু'জন বরিষ্ঠ নেতার নাম প্রস্তাব করেছেন।
মহারাষ্ট্রে ভিন্ন মেরুতে থাকা দুই দলকে একই জোটে সামিল করে, দুই দলকেই পরষ্পরের শর্তে রাজি করিয়ে সরকার গড়ার কাণ্ডারী হয়েছেন পওয়ার। তাঁর দলের পক্ষ থেকে বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে টুইট করা হয়েছে। নবাব মালিকের করা টুইটে বলা হয়েছে, দিল্লির মসনদের কাছে মাথা ঝোঁকাল না মহারাষ্ট্র।
https://twitter.com/nawabmalikncp/status/1197711667389321219
বিজেপিকে খোঁচা দিতে ছাড়েনি শিবসেনাও। দলের মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত লিখেছেন, কখনও কখনও সম্পর্ক ভাঙতে হয়, সেটা অহঙ্কারের জন্য নয়, আত্মসম্মানের জন্য।
https://twitter.com/rautsanjay61/status/1197697323490525185
শিবসেনা সূত্রে খবর, মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে এখন এগিয়ে রয়েছেন সঞ্জয় রাউত ও অরবিন্দ সাওয়ান্ত। কয়েক দিন আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন সাওয়ান্ত। মুখ্যমন্ত্রী হবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন একনাথ শিণ্ডে। শিবসেনার প্রধান উদ্ধব ঠাকরে নিজে মুখ্যমন্ত্রী হতে আগ্রহী নন। তিনি চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী হোন সঞ্জয় রাউত ও অরবিন্দ সাওয়ান্তের মধ্যে কোনও একজন। তিনি বরং ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির সভাপতি শরদ পওয়ার ও কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সমন্বয়ের কাজটিই করবেন। তবে তাঁর দলের বিধায়করা চাইছেন, উদ্ধবই বসুন মুখ্যমন্ত্রীর তখতে।
কাল রাতেই ঠিক হয়, শিবসেনা, এনসিপি ও কংগ্রেসের নতুন জোটের নাম হচ্ছে মহারাষ্ট্র বিকাশ আগাড়ি (মহারাষ্ট্র উন্নয়ন ফ্রন্ট)। এই জোটের নেতৃত্বে শিবসেনাই থাকছে। সঞ্জয় রাউত আজ সকালেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিন দলের সরকারে পাঁচ বছরের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শিবসেনার কেউ।
শিবসেনার কট্টর মনোভাবের জন্যই তাদের সঙ্গে জোটে প্রথম থেকে সায় ছিল না কেরল কংগ্রেসের একাংশের। কারণ শিবসেনার সঙ্গে জোট করে সরকার গড়লে ভবিষ্যতে প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে কংগ্রেসকে। তাই শিবসেনার সঙ্গে জোটে যাওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না কংগ্রেস। যদিও বিজেপির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যেতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা দলনেত্রী সনিয়া গান্ধীকে জানান, শিবসেনাকে সমর্থন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্য সমস্যা হচ্ছিল শিবসেনার কট্টর মনোভাবের আদর্শ।
ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি বলে পরিচিত কংগ্রেসের পক্ষে শিবসেনাকে সমর্থন করা মুশকিলও ছিল। মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বিরাজ চ্যবন বলেন, “দেবেন্দ্র ফড়ণবীশের অপশাসনের অবসান ঘটাতেই আমরা শিবসেনার সঙ্গে থাকছি। আমরা তো আর মহারাষ্ট্রকে ভুগতে দিতে পারি না।”
এই দিন দল আগে কখনও জোট বাঁধেনি বলেই ন্যূনতম সাধারণ কর্মসূচি তৈরি করতে তাদের দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে।
শিবসেনা জানিয়েছে, শনিবারই তারা রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির সঙ্গে দেখা করবে বিধায়কদের চিঠি নিয়ে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে রবিবার বা সোমবারের মধ্যে মহারাষ্ট্রে নতুন সরকারের শপথ হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও দল সরকার গড়তে না পারায় মহারাষ্ট্রে জারি করা হয়েছে রাষ্ট্রপতিশাসন। ২৮৮ বিধানসভার মহারাষ্ট্রে ১০৫টি আসন পেয়েছে বিজেপি, শিবসেনা পেয়েছে ৫৬টি এনসিপি পেয়েছে ৫৪টি ও কংগ্রেস পেয়েছে ৪৪টি আসন।