
শেষ আপডেট: 24 February 2023 05:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় ১৩০০ থেকে ১৪০০ কোটি বছরের পুরনো গ্যালাক্সির হদিশ পেয়েছে নাসার মহাকাশ-দূরবীন জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ (James Webb Space Telescope)। নাসা জানিয়েছে, ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির রহস্য লুকিয়ে আছে এখানে। মহা বিস্ফোরণ বিগ ব্য়াং এর পরেই এই নক্ষত্রপুঞ্জ তৈরি হয়েছিল। মহাকাশে চোখ রেখে সেই নক্ষত্রপুঞ্জকে খুঁজে বের করেছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মহাকাশ-দূরবীন জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (James Webb Space Telescope)।
/cdn.vox-cdn.com/uploads/chorus_image/image/71056355/Webb_wallpaper.0.jpg)
আরও গভীরে পৌঁছে ব্রহ্মাণ্ডকে চেনা, জানার জন্য মহাকাশে হাব্ল-এর চেয়েও অনেক গুণ বেশি শক্তিশালী টেলিস্কোপ পাঠিয়েছে নাসা। তার নাম— জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (জেডব্লিউএসটি) (James Webb Space Telescope)। ২০২১ সালের ডিসেম্বর ২৫ তারিখে আরিয়ান ৫ রকেটে চেপে মহাশূন্যের দিকে যাত্রা করেছিল দূরবীন। হাবল যেখানে আলোক তরঙ্গ নিয়ে নাড়াচাড়া করে, জেমস ওয়েব সেখানে ‘বিগ ব্যাং’ বা মহাবিস্ফোরণের সূত্র খুঁজে আনবে। ২৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিট নাগাদ আরিয়ান-৫ রকেটে চেপে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের বাইরে মহাকাশে ছেড়ে দেওয়া হয় জেমস ওয়েব দূরবীনকে। এখন মহাশূন্যে একে একে পাপড়ি মেলছে এই মহাকাশ-দূরবীন।

৩১ বছর আগে ১৯৯০ সালের ২৪ এপ্রিল নাসা মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠিয়েছিল হাব্ল স্পেস টেলিস্কোপ। তার পর গত তিন দশকে মহাকাশবিজ্ঞান খুব দ্রুত গতিতে এগিয়েছে। তাই ব্রহ্মাণ্ডের আরও গভীরে গিয়ে পর্যবেক্ষণ জরুরি হয়ে উঠেছে। মহাকাশ ফুঁড়ে ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির রহস্য জানার জন্যই জেমস ওয়েবকে পাঠানো হয়েছে মহাকাশে।
১৩০০ কোটি বছরের পুরনো গ্যালাক্সি ধরা দিল নাসার টেলিস্কোপে, নক্ষত্রপুঞ্জকে ঘিরে বিশাল জ্যোতির্বলয়

মহাকাশের এই খুব শক্তিশালী টেলিস্কোপটি (James Webb Space Telescope) বানাতে নাসার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (এসা) এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি (সিএসএ)। টেলিস্কোপটিকে যে রকেটে চাপিয়ে পাঠানো হয়েছে মহাকাশে, সেই আরিয়েন ৫ ইসিএ রকেটটি বানিয়েছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি।
পৃথিবী থেকে ১.৫ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে তার গন্তব্য। নাসার দাবি, এই টেলিস্কোপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মহাকাশ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বদলে দিতে পারে। নাসার জানাচ্ছে, আগামী অন্তত এক দশক ধরে এই জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপই হবে নাসা, এসা, সিএসএ, ইসরো, জাক্সা (জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা), রসকসমস (রুশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা)-এর মহাকাশ পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার প্রধান অবলম্বন।

বিজ্ঞান গবেষণার জন্য এই টেলিস্কোপে (James Webb Space Telescope) রয়েছে মূলত ৬ যন্ত্র। ‘নিয়ার-ইনফ্রারেড ক্যামেরা (নিরক্যাম)’, ‘মিড-ইনফ্রারেড ইনস্ট্রুমেন্ট (মিরি)’, ‘নিয়ার-ইনফ্রারেড ইমেজার (নিনফি)’, ‘স্লিটলেস স্পেকট্রোগ্রাফ (নিরিস)’, ‘নিয়ার-ইনফ্রারেড স্পেকট্রোগ্রাফ (নিরস্পেক)’, এবং ‘ফাইন গাইডেন্স সেন্সর (এফজিএস)’।

পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য বিশাল অ্যান্টেনা রয়েছে জেমস ওয়েবের। শক্তি জোগাবে পেল্লায় সোলার প্যানেল। হাবল টেলিস্কোপ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে, জেমস ওয়েব একধাপ এগিয়ে সূর্যকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করবে। সূর্যের চোখা চোখা রশ্মির ফলা থেকে বাঁচতে এতে রয়েছে বিশাল সানশিল্ড। ১৩৮০ কোটি বছর আগে হওয়া বিগ ব্যাং বা মহা-বিস্ফোরণের পর ব্রহ্মাণ্ড কী ভাবে তৈরি হয়েছিল, কী ভাবে তৈরি হয়েছিল প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের তারাগুলি, কী ভাবে তৈরি হয়েছিল ছায়াপথগুলি (‘গ্যালাক্সি’) বা ছায়াপথগুলির ঝাঁক (‘গ্যালাক্সি ক্লাস্টার’), সে খবর বয়ে আনবে জেমস ওয়েব। ব্রহ্মাণ্ডের ক্রম বিবর্তনের ইতিহাস মহাশূন্যের অতল গহ্বর থেকে তুলে আনবে নাসার এই শক্তিশালী মহাকাশ-দূরবীন।