দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাদুড়ের শরীরেই কি সুপ্ত ছিল নভেল করোনার মতো ভাইরাসের জিন? বাদুড় যে ধরনের ভাইরাসের বাহক তাদের থেকেই কি জিনের গঠন বদলে সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেন চলে এসেছে মানুষের সমাজে? এমন নানা প্রশ্ন আগেও উঠেছে। সে নিয়ে তর্ক-বিতর্কও বিস্তর হয়েছে। বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কেউ বলেছেন, বাদুড়ের শরীরে যে ভাইরাসের জিন মিলেছে তার সঙ্গে সার্স-কভ-২ আরএনএ ভাইরাসের জিনের মিল থাকলেও সেই ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রমণ ছড়াতে পারে না। আবার অন্য দলের মত, বাদুড়ের শরীরে পাওয়া ভাইরাসই তার রূপ বদলে নভেল করোনা হয়ে ফিরে এসেছে।
সম্প্রতি ‘নেচার মাইক্রোবায়োলজি’ সায়েন্স জার্নালে একটি গবেষণার রিপোর্ট সামনে এসেছে। সেখানে পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দাবি করেছেন, কয়েক দশক আগেই নভেল করোনার মতো ভাইরাসের খোঁজ মিলেছিল বাদুড়ের শরীরে। গত ৪০-৭০ বছরে সেই ভাইরাসেরই বিবর্তন হয়েছে। হতেই পারে সার্স-কভ-২ ভাইরাস সেই বিবর্তনেরই ফল।
বিজ্ঞানীদের দাবি, করোনাভাইরাস আগেও ছিল। নানা সময় এই ভাইরাস জিনের গঠন বদলেছে। এটা খুবই জটিল প্রক্রিয়া। করোনা তার জিনের গঠন বিন্যাস বদলে নানা রূপে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই নতুন করোনা বা নভেল করোনার উৎস সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায়নি। বিজ্ঞানীরা বাদুড়ের ভাইরাস RaTG13 কথা বলছেন যার সঙ্গে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের জিনের মিল বেশি। কাজেই মানুষের সমাজে অতিমহামারীর জন্য দায়ী যে সার্স-কভ-২ তার উৎস ব্যাট ভাইরাস হতেই পারে, এমনটাই দাবি মার্কিন বিজ্ঞানীদের।
গবেষক ম্যাসিয়েজ বনি সার্স-কভ-২ ও বাদুড়ের ভাইরাসের জিনোম বিশ্লেষণ করে দাবি করেছেন, এই দুই ভাইরাসের উৎস একই। RaTG13 এবং সার্স-কভ-২ একই পরিবারের সদস্য। ১৯৪৮, ১৯৬৯ ও ১৯৮২ সালে যে ব্যাট ভাইরাসের খোঁজ মিলেছিল তার সঙ্গেও নভেল করোনার মিল রয়েছে।
বাদুড় থেকে করোনা আসেনি, এমন মতও রয়েছে
যে বাদুড়ের প্রজাতির মধ্যে সার্স-কভ-২ এর মতো ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে তার নাম Horseshoe Bat (Rhinolophus affinis)। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই বাদুড় মানুষের সংস্পর্শে খুব একটা আসে না। বা এলেও কোনওরকম সংক্রামক রোগ ছড়ায় না। এই বাদুড়ের একটা অংশের মধ্যে RaTG13 ভাইরাস পাওয়া গেছে যার জিনের সঙ্গে সার্স-কভ-২ ভাইরাল জিনের ৯৬% মিল আছে। এখান থেকেই অনেকের ধারণা তৈরি হয়েছে যে এই বাদুড়ই হল মারণ ভাইরাসের বাহক। কিন্তু সেটা একেবারেই নয়। সব ভাইরাসেরই মানুষের শরীরে ঢোকার জন্য একটা বিশেষ বাহক প্রোটিনের (Receptor Protein) দরকার হয়। সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনের জিনোম বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এই ভাইরাস দেহকোষের ঢোকার জন্য যে বাহক প্রোটিনের সঙ্গে জোট বাঁধে তার নাম ACE-2 (অ্যাঞ্জিওটেনসিন কনভার্টিং এনজাইম ২)। কিন্তু বাদুড়ে পাওয়া RaTG13 ভাইরাল স্ট্রেন এই বাহক প্রোটিনের সঙ্গে জোট বাঁধতে পারে না। তাই মানুষের শরীরে ঢোকার কৌশল তাদের জানা নেই। বিজ্ঞানীদের দাবি, অনুমান করা হচ্ছে ৪০-৭০ বছর আগে বাদুড়ের এই ভাইরাস RaTG13 এবং সার্স-কভ-২ দুইয়েরই একই উৎস (Origin)ছিল। সেই উৎস বাদুড় নাও হতে পারে, অন্য প্রাণীও হতে পারে। একই পূর্বসূরী থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে আসায় এই দুই ভাইরাসের জিনের মিল রয়েছে। আর শুধুমাত্র এই মিল দেখে বলা যায় না বাদুড়ের ভাইরাসই আসলে সার্স-কভ-২।