‘ফোন হ্যাক হয়নি জেফ, আমরা তোমার বিরোধী নই,’ অ্যামাজন কর্তাকে বললেন সৌদি যুবরাজ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেসেজ চালাচালির সময় ভিডিওতে স্পাইওয়্যার পাঠিয়ে অ্যামাজন কর্তা জেফ বেজোসের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিল সলমনের বিরুদ্ধে। জেফের মোবাইলে আড়ি পাতার অভিযোগও গুরুতর। যদিও জেফ
শেষ আপডেট: 22 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেসেজ চালাচালির সময় ভিডিওতে স্পাইওয়্যার পাঠিয়ে অ্যামাজন কর্তা জেফ বেজোসের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিল সলমনের বিরুদ্ধে। জেফের মোবাইলে আড়ি পাতার অভিযোগও গুরুতর। যদিও জেফ বেজোসের ফোন হ্যাক করার অভিযোগ আগেই উড়িয়ে দিয়েছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার ব্যক্তিগতভাবে এক বার্তায় সৌদি যুবরাজও দাবি করেন, জেফ বেজোসের ফোনে আড়ি পাতা হয়নি। ফো হ্যাকের ব্যাপারটা নিছকই ধাপ্পা।
মার্কিন দৈনিক ‘দ্য ওয়াশিটংন পোস্ট’-এর মালিক, ‘অ্যামাজন’-এর সিইও জেফ বেজোসের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে কি না সেই বিষয়ে একটি রিপোর্ট পেশ করা হয় ওই দৈনিকে। যেখানে দাবি করা হয়, ডিজিটাল ফরেন্সিকের পরীক্ষাতেও হ্যাকিংয়ের বিষয়টা নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই পরীক্ষায় প্রমাণ মিলেছে বেজোসের ফোন হ্যাক করা হয়েছিল সৌদি যুবরাজের ব্যক্তিগত ফোন থেকেই। অ্যামাজন কর্তার সঙ্গে একটা সময় ঘনিষ্ঠতা ছিল সৌদি যুবরাজের। ব্যক্তিগত মেসেজ চালাচালিও হত। সেই সুযোগ নিয়েই নাকি আ্যামাজন কর্তার ফোনে বিশেষ ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে আড়ি পাতা শুরু করেন সৌদি যুবরাজ।
রাষ্ট্রপুঞ্জে এই ব্যাপারে রিপোর্টও পেশ করেন দুই বিশেষজ্ঞ অ্যাগনেস ক্যালামার্ড ও ডেভিড কায়ে। যদিও আমেরিকার সৌদি দূতাবাস রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টটি খারিজ করে দেয়। তারা দাবি করে, জেফ বেজোসের ফোন হ্যাকিংয়ের পিছনে সৌদি আরব রয়েছে, তা একেবারে ভিত্তিহীন। এই ব্যাপারে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবিও তোলে তারা।
এদিন এক বিবৃতিতে জেফ বেজোসকে উদ্দেশ্য করে সৌদি যুবরাজ বলেন, “ফোন হ্যাক করা হয়নি জেফ। এইসব কথায় বিশ্বাস কোরো না। সৌদি আরব তোমার বিরুদ্ধে নয়।”

সূত্রের খবর, সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যার পর থেকেই বেজোসের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের। খাশোগি-হত্যায় অন্যতম অভিযুক্তই ছিলেন সৌদি যুবরাজ। আর খাশোগি যে মার্কিন দৈনিকের সাংবাদিক ছিলেন তার মালিকই ছিল অ্যামাজন। একটি ব্রিটিশ দৈনিক দাবি করে, ২০১৮ সালের পয়লা মে বেজোসের আইফোনে যে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ ঢুকেছিল সেটা এসেছিল সৌদি যুবরাজের ফোন থেকেই। রিপোর্টে দাবি করা হয়, এমন একটি ভিডিও ফাইল পাঠানো হয়েছিল বেজোসের মোবাইলে যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আ্যামাজন কর্তার ফোন থেকে যাবতীয় তথ্য বেহাত হয়ে যায়। অ্যামাজন-কর্তার গোপন খবরাখবর জানতেই সৌদি সরকার যে গোপনে ফোন হ্যাক করিয়েছিল সেটাই দাবি করা হয় রিপোর্টে।