দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার ভ্যাকসিন তৈরির দাবি করেছেন নাইজেরিয়ার বিজ্ঞানীরা। সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেন থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট করোনা সংক্রমণের মোকাবিলা করতে পারবে বলেই দাবি গবেষকদের। যদিও এই ভ্যাকসিন কী পদ্ধতিতে বানানো হয়েছে সেই তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
ওসানের অ্যাডেলেকে ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল ভাইরোলজি, ইমিউনোলজি ও বায়োইনফর্মেটিক্স বিভাগের প্রধান ডক্টর ওলাডিপো কোলাওল জানিয়েছেন, এই ভ্যাকসিনের নাম খুব তাড়াতাড়ি ঘোষণা করা হবে। আফ্রিকায় প্রথমবার কোভিড ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। ভাইরোলজিস্ট বলেছেন, এই ভ্যাকসিন কোভিড সংক্রমণ ছাড়াও অন্যান্য সংক্রামক রোগ প্রতিরোধেও বিশেষ ভূমিকা নেবে।
সার্স-কভ-২ আরএনএ ভাইরাসের সংক্রামক প্রোটিনকে আলাদা করে এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট বানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডক্টর ওলাডিপো। এই ভ্যাকসিন আরএনএ টেকনোলজিতে বানানো হয়েছে কিনা অথবা অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির মতো ডিএনএ ভেক্টর ভ্যাকসিন কিনা সেটা এখনও স্পষ্ট করে বলেননি ভাইরোলজিস্ট। তাঁর দাবি, এই ভ্যাকসিন এমন বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে যা শুধু করোনা নয়, অন্যান্য রোগের প্রতিষেধক হিসেবেও কাজে লাগবে। শরীরে ইনজেক্ট করলে এই ভ্যাকসিন মেমরি বি সেলকে সক্রিয় করে তুলবে। এই মেমরি বি সেল অ্যান্টিবডি তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। বি কোষ উদ্দীপিত বিভাজিত হয়ে নিজের অসংখ্য ক্লোন তৈরি করবে যেগুলি থেকে রক্তরস বা প্লাজমায় অ্যান্টিবডি তৈরি হবে।

ইউনিভার্সিটির সহ-উপাচার্য অধ্যাপক সলোমন অ্যাডেবোলা জানিয়েছেন, আফ্রিকার জন্যই বিশেষভাবে তৈরি হয়েছে এই ভ্যাকসিন। স্থানীয় নাইজেরিয়ানদের শরীরেই আগে প্রয়োগ করা হবে। এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের ল্যাবরেটরি ট্রায়ালে সাফল্য মিলেছে। মানুষের উপর ট্রায়াল শুরু হবে খুব তাড়াতাড়ি।
প্রেসিয়াস কর্নারস্টোন ইউনিভার্সিটির রিসার্চ ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক জুলিয়াস ওলোকের কথায়, এই ভ্যাকসিন বহুবার পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া হয়েছে। মানুষের শরীরে কোনওরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) জানিয়েছে এখনও অবধি ১৩৫ রকমের কোভিড ভ্যাকসিন তৈরি হওয়ার পথে। তার মধ্যে ১৩ রকমের ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। প্রিক্লিনিকাল স্টেজে রয়েছে প্রায় ১১৫ রকমের ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট।
কোভিড ভ্যাকসিন গবেষণায় এখনও অবধি আশা জাগিয়েছে মোডার্না বায়োটেকনোলজি ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট। তৃতীয় পর্যায়ে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করছে মোডার্না। এমআরএনএ সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে তৈরি এই ভ্যাকসিনের নাম
এমআরএনএ-১২৭৩ (mRNA-1273)। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও অ্যাস্ট্রোজেনেকার উদ্যোগে ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্টের টিম তৈরি করছে ডিএনএ ভেক্টর ভ্যাকসিন। অ্যাডেনোভাইরাসকে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে তৈরি এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের নাম
AZD1222। জার্মান বায়োটেকনোলজি ফার্ম বায়োএনটেক এসই-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কোভিড ভ্যাকসিন বানাচ্ছে ফাইজার। আরএনএ টেকনোলজিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের নাম BNT162।
ইজরায়েলের বার ইলান ইউনিভার্সিটি (BIU) ভাইরাল প্রোটিন বা অ্যান্টিজেন থেকে এমন ২৫ রকমের এপিটোপ চিহ্নিত করেছে যারা মানুষের শরীরে ঢুকলে ভাইরাস-প্রতিরোধী কার্যকরী অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে। ‘এমডিপিআই ভ্যাকসিন’ জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছেন ইজরায়েলের বিজ্ঞানীরা। ইজরায়েলি ভাইরোলজিস্টদের দাবি, ভাইরাল অ্যান্টিজেনের এমন কিছু সংক্রামক উপাদান স্ক্রিনিং করে বার করা হয়েছে যার থেকে ভ্যাকসিন তৈরি হলে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি তো হবেই, দেহকোষের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে।