Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: আজ আদৌ খেলবেন তো? ‘চোটগ্রস্ত’ বিরাটের অনুশীলনের ভিডিও দেখে ছড়াল উদ্বেগনৌকাডুবিতে ১৫ জনের মৃত্যু, বৃদ্ধার প্রাণ বাঁচাল ইনস্টা রিল, ফোনের নেশাই এনে দিল নতুন জীবন!‘ভূত বাংলা’-তে যিশু সেনগুপ্তর আয় নিয়ে হইচই! ফাঁস হল অঙ্কপদ খোয়ানোর পর এবার নিরাপত্তা! রাঘব চাড্ডার Z+ সুরক্ষা তুলে নিল পাঞ্জাব সরকার, তুঙ্গে জল্পনাফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কারTCS Case: প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর টাকার টোপ! টিসিএসের অফিসে কীভাবে টার্গেট করা হত কর্মীদের‘ফোর্স ৩’ শুটিং জোরকদমে, পুরনো চরিত্রে ফিরছেন জন— নতুন চমক কারা?'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিঙে ভিডিওবার্তা অমিত শাহের

চিনের যম ভারতের স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স, গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ পাওয়া বাহিনীই ঘুম উড়িয়েছে লাল ফৌজের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিন কেন এত মরিয়া হয়ে উঠেছে? আজ এখানে তো কাল সেখানে সামরিক পরিকাঠামো বানাতে উঠে পড়ে লেগেছে। লাদাখের পাহাড়ি এলাকায় ভারতের শক্তি দেখেই কি এত ভয়?  প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে ভারতের স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার

চিনের যম ভারতের স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স, গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ পাওয়া বাহিনীই ঘুম উড়িয়েছে লাল ফৌজের

শেষ আপডেট: 6 September 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিন কেন এত মরিয়া হয়ে উঠেছে? আজ এখানে তো কাল সেখানে সামরিক পরিকাঠামো বানাতে উঠে পড়ে লেগেছে। লাদাখের পাহাড়ি এলাকায় ভারতের শক্তি দেখেই কি এত ভয়?  প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে ভারতের স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স (এসএফএফ)। তিব্বতি সেনাদের নিয়ে তৈরি এই সীমান্তরক্ষা বাহিনীই এখন লাল ফৌজের যম। দক্ষিণ প্যাঙ্গং হ্রদের উঁচু পাহাড় কালা টপ ও উত্তর সীমার ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ এলাকার দখল নিয়েছে এসএফএফ। লাদাখের ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অতন্ত্র প্রহরীর মতোই এখন পাহারায় এই ভারতের এই দুর্ধর্ষ বাহিনী। এদের টপকে অনুপ্রবেশ এক কথা অসম্ভব লাল ফৌজের কাছে। পাহাড়ি খাঁজ, ভাঁজ যেখানে সাধারণ মানুষের পা রাখা অসম্ভব ব্যাপার সেখানেই অবাধ গতি এই বাহিনীর। আগ্নেয়াস্ত্রে নির্ভুল নিশানা। উঁচু পাহাড়ি এলাকার প্রচণ্ড ঠান্ডা, প্রতিকূল পরিবেশেও যুদ্ধ করার বিশেষ প্রশিক্ষণ আছে এই বাহিনীর। গা ঢাকা দিয়ে অতর্কিতে শত্রুপক্ষের উপর হামলা চালাতে পারে স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স। তাদের গতি অতি সতর্ক, এক মুহূর্তের জন্যও টের পাবে না শত্রু পক্ষ। রণকৌশলে প্রতি পদক্ষেপে চ্যালেঞ্জ করতে পারে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মিকে। যেহেতু তিব্বতি সেনাদের নিয়ে এই ফৌজ বানিয়েছে ভারত, তাই চিনের বাহিনীর রকমসকম এদের নখদর্পণে। কীভাবে, কোথা দিয়ে আক্রমণের কৌশল নিতে পারে চিনের সেনা তা আগেভাগেই আঁচ করতে পারে এই বাহিনী। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাল ফৌজের গতিবিধি আগে থেকে আঁচ করেই কালা টপের দখল নিতে পেরেছিল স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স। চুসুলের কাছে ট্যাঙ্ক বাহিনীকে আগে থেকেই তৈরি রেখেছিল তারা। কালা টপের পাদদেশেও পাহারায় ছিল এসএফএফ। রাতের অন্ধকারে পা টিপে টিপে এসেও লাভ হয়নি চিনের সেনার। এসএফএফকে টপকে দক্ষিণ প্যাঙ্গং রেঞ্জে ঢুকতেই পারেনি লাল ফৌজ। আধিপত্য কায়েম তো অনেক দূরের কথা। স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স তৈরির পিছনেও অনেক ইতিহাস আছে। সেই ১৯৬২ সালে চিনের সঙ্গে যুদ্ধের সময় এই বিশেষ সীমান্তরক্ষী বাহিনী তৈরি করে ভারত। অবশ্য এই বাহিনী গড়ে তোলার পরিকল্পনা অনেক আগেই স্থির হয়েছিল। সীমান্ত পাহারার জন্য টিবেটান ফোর্স (লাদাখি, সিকিমিজ, গোর্খাদের নিয়ে তৈরি বাহিনী) ভারতীয় বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্রিটিশ সেনারা একসময় তিব্বতিদের গুপ্তচর হিসেবে কাজে লাগাত। উত্তর ভারতের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার খবর পাওয়ার জন্য এদের ব্যবহার করত ব্রিটিশ বাহিনী। পরে ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে উত্তরের পাহাড়ি এলাকা মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ওই অংশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ঢিলে হয়। ১৯৫০ সাল নাগাদ আমেরিকার সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্স এজেন্সি ও ভারতের ইনটেলিজেন্স ব্যুরো নেপালের কাছে মুসটাং বেস তৈরি করে। এই ঘাঁটিতে তিব্বতিদের গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। দলাই লামা ভারতে আসার প্রায় তিন বছর পরে ১৯৬২ সাল নাগাদ এই তিব্বতি বাহিনীকে নিয়েই স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স তৈরি হয়। এই বাহিনীর আরও এক নাম ‘এসট্যাবলিশমেন্ট ২২’ (Establishment 22) । কারণ এই বাহিনীর প্রথম ইনস্পেকটর জেনারেল ছিলেন মেজর সুজন সিং উবান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপে ২২ মাউন্টেন ডিভিশনের কম্যান্ডার ছিলেন উবান। ব্রিটিশ সেনার গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি। উত্তর আফ্রিকায় ‘লং রেঞ্জ ডেসার্ট গ্রুপ (LRDS)’ স্কোয়াড্রনের কম্যান্ডারও ছিলেন উবান। যুদ্ধ স্ট্র্যাটেজিতেও তাঁর সমকক্ষ খুব কমই ছিল। তিব্বতি সেনাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন তিনি। তবে চিন-ভারত যুদ্ধের সময় এই বাহিনী তৈরি নিয়েও নানা টানাপড়েন হয়। শোনা যায়, তিব্বতিদের নিয়ে প্রথম এমন সেনাদল তৈরির প্রস্তাব করেছিলেন জেনারেল কোডানডেরা সুব্বায়া থিমায়া। ১৯৫৭ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। প্রথমে তাঁর প্রস্তাবে বিশেষ সাড়া দেয়নি সরকার। পরে চিনের সঙ্গে যুদ্ধে ভারতের পাহাড়ি সীমান্তের দুর্দশা দেশে এই বাহিনী তৈরির জন্য বিশেষ প্রস্তাব জমা দেন তৎকালীন ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান ভোলা নাথ মল্লিক। শেষ পর্যন্ত জওহরলাল নেহরু সরকার এই বিশেষ কম্যান্ডো তৈরির জন্য অনুমতি দেয়। প্রথমে এই বাহিনীর নাম হয়েছিল ‘বিকাশ ব্যাটেলিয়ন’, পরে নাম দেওয়া হয় স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স। তাছাড়া ১৯৮৪ সালে স্বর্ণমন্দিরে অপারেশন ব্লু স্টার, সিয়াচেনের সুরক্ষায় ১৯৮৪ সালে অপারেশন মেঘদূত এবং ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের সময় অপারেশন বিজয়—সবেতেই স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের দক্ষতার প্রমাণ মিলেছে। তিব্বতি সেনাদের নিয়ে তৈরি এই বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয় ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো এবং  দ্য ইনটেলিজেন্স এজেন্সি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র)। শত্রুদের উপর কীভাবে অতর্কিতে হামলা চালাতে হবে, কীভাবে অপর পক্ষের কৌশল ধরতে হবে তার সব খুঁটিনাটিই শেখানো হয় এই বিশেষ বাহিনীকে। এদের মূল লক্ষ্য হল চিনের সেনাকে প্রতিহত করা। স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের প্রধান নিশানাই পিপলস লিবারেশন আর্মি। সীমান্ত পেরিয়ে চিনের বাহিনীকে ভারতে ঢুকতে বাধা দেওয়াই এদের অন্যতম প্রধান কাজ।

```