সেপ্টেম্বরেই ভ্যাকসিন বাজারে আনতে পারে সেরাম, বছরে তৈরি হবে ৬ কোটি, জানালেন আদর পুনাওয়ালা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেপ্টেম্বরের মধ্যেই চলে আসতে পারে কোভিড ভ্যাকসিন। বছরে প্রায় ৬ কোটি ভ্যাকসিন বাজারে আনা হবে, এমনটাই জানালেন সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সিইও আদর পুনাওয়ালা। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কোভিড ভেক্টর ভ্যাকসিন তৈর
শেষ আপডেট: 28 April 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেপ্টেম্বরের মধ্যেই চলে আসতে পারে কোভিড ভ্যাকসিন। বছরে প্রায় ৬ কোটি ভ্যাকসিন বাজারে আনা হবে, এমনটাই জানালেন সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সিইও আদর পুনাওয়ালা। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কোভিড ভেক্টর ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে ভারতেই। আদর বলেছিলেন, অক্সফোর্ডে এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ মানুষের শরীরে সফল হলেই ভ্যাকসিন তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। তবে সেরাম জানাচ্ছে, এতদিন অপেক্ষা না করে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট তৈরিই রাখা হবে। প্রয়োজনে ভারতেও ট্রায়াল শুরু হবে। সব ঠিক থাকলে আশা করা যায় সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ভ্যাকসিন চলে আসবে বাজারে।
ছোট ছোট ডোজে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সেরাম সিইও। বলেছেন এক একটি ভ্যাকসিনের দাম পড়বে ১০০০ টাকা। তবে ভারত সরকার বিনামূল্যেই ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করবে জনসাধারণকে।
আদর পুনাওয়ালা বলেছেন, মানুষের শরীরে এই ভ্যাকসিন কাজ করলেই বাণিজ্যিক হারে ভেক্টর ভ্যাকসিন বানানোর কাজ শুরু হবে সেরাম ইনস্টিটিউটে। প্রতিমাসে ৫০ লক্ষ ডোজে ভ্যাকসিন বানানো হবে। মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনের প্রভাব কার্যকরী প্রমাণিত হলেই ফি মাসে প্রায় এক কোটি ডোজে ভ্যাকসিন বানানো শুরু হবে এই ভ্যাকসিন। বছর শেষেই প্রায় ৬ কোটি ভ্যাকসিন তৈরি করে ফেলবে সেরাম ইনস্টিটিউট। সেরাম কর্ণধার সাইরাস পুনাওয়ালা বলেছেন, পুণের দুটি ফার্মে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে। আগামী বছরের মধ্যে ৪০ কোটির বেশি ভ্যাকসিন চলে আসবে বাজারে।
মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চলছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে। ৮০০ জনের উপরে প্রাথমিকভাবে ট্রায়াল শুরু হয়েছে। প্রথম ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে এলিসা গ্রানাটো নামে এক মহিলা বিজ্ঞানীকে। অক্সফোর্ড জানিয়েছে, এলিসার শারীরিক অবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল। কোনওরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা শারীরিক অস্বস্তি দেখা যায়নি তাঁর।
কোভিড-১৯ প্রতিরোধী এই ভ্যাকসিনের নাম ChAdOx1 nCoV-19। এই ভ্যাকসিন আসলে ভেক্টর ভ্যাকসিন। অ্যাডেনোভাইরাল ভ্যাকসিন ভেক্টর ও সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনের স্পাইক প্রোটিনকে কাজে লাগিয়ে এই ভ্যাকসিন ChAdOx1 nCoV-19 তৈরি করা হয়েছে। ভেক্টর বা বাহকের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে সাধারণ ফ্লু ভাইরাস অ্যাডেনোভাইরাসকে (adenovirus) । শিম্পাঞ্জির শরীর থেকে নেওয়া হয়েছে এই অ্যাডেনোভাইরাস। তারপর একে ল্যাবে এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে যাতে মানুষের শরীরে কোনও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে না পারে।
কীভাবে বানানো হয়েছে এই ভেক্টর ভ্যাকসিন? সার্স-কভ-২ ভাইরাসের কাঁটার মতো অংশ অর্থাৎ স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিনগুলোকে প্রথমে আলাদা করা হয়েছে। এই ভাইরাল প্রোটিন আগে থেকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা অ্যাডেনোভাইরাসের মধ্যে ঢুকিয়ে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়েছে। এখন ভ্যাকসিন ইনজেক্ট করলে এই বাহক ভাইরাস অর্থাৎ অ্যাডেনোভাইরাস করোনার স্পাইক প্রোটিনগুলোকে সঙ্গে করে নিয়েই মানুষের শরীরে ঢুকবে। দেহকোষ তখন এই ভাইরাল প্রোটিনের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করবে। সেই সঙ্গে দেহকোষের টি-সেল (T-Cell)গুলোকে উদ্দীপিত করবে। এই টি-সেল হল শরীরে অন্যতম বড় অস্ত্র। এর কাজ হল বাইরে থেকে আসা যে কোনও সংক্রামক জীবাণুকে খতম করে দেওয়া। একদিকে অ্যান্টিবডি অন্যদিকে টি-সেল, এই দুই অস্ত্রেই ধ্বংস হয়ে যাবে করোনার স্পাইক প্রোটিন।
অক্সফোর্ডে এই ভ্যাকসিন গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্ট, অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, ডক্টর স্যান্ডি ডগলাস ও অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল। জেন্নার ইনস্টিটিউট ভাইরোলজি বিভাগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই ভ্যাকসিন ডিজাইন করা হয়েছে।