
শেষ আপডেট: 27 November 2020 07:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো : চলতি আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ভারতের মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপি সম্ভবত সংকুচিত হয়েছে ৮.৮ শতাংশ হারে। প্রথম ত্রৈমাসিকের চেয়ে দ্বিতীয়বার সম্ভবত কম হারে সংকুচিত হচ্ছে জিডিপি। প্রথম ত্রৈমাসিকে লকডাউনে সব বন্ধ ছিল। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে আনলক পর্ব শুরু হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ফলে জিডিপির সংকোচন হয় কম হারে।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের জিডিপি সম্পর্কে সরকারিভাবে জানানো হবে। সম্ভবত তখনই বোঝা যাবে, মন্দার কবলে পড়েছে ভারতের অর্থনীতি। পরপর দু'টি ত্রৈমাসিকে জিডিপি সংকুচিত হলে অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়েছে বলে ধরা হয়। এর আগে ১৯৯৬ সালে পরপর দু'টি ত্রৈমাসিকে অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়েছিল। এপ্রিল থেকে জুন অবধি প্রথম ত্রৈমাসিকে জিডিপির সংকোচন হয়েছিল ২৩.৯ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা আশাবাদী, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে সংকোচনের হার কমবে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, ডিসেম্বরে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে জিডিপির সংকোচনের হার আরও কমবে। তখন মোট জাতীয় উৎপাদন সংকুচিত হবে তিন শতাংশ। আর্থিক বছরের শেষ ত্রৈমাসিকে জিডিপি সংকুচিত হবে ০.৫ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে ২০২০-২১ সালের আর্থিক বছরে অর্থনীতি সংকুচিত হবে সম্ভবত ৮.৭ শতাংশ। সেক্ষত্রে ধরে নিতে হবে গত চার দশকে চলতি আর্থিক বছরেই সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হয়েছে ভারতীয় অর্থনীতির।
লকডাউনের ফলে হাজার হাজার মানুষ কাজ হারিয়েছেন। বিরাট সংকটে পড়েছে অর্থনীতি। অর্থনীতিবিদরা আশা করছেন, আগামী বছরের শুরুতে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়বে। আশা করা হচ্ছে, ওই সময়ের মধ্যে এসে পড়বে করোনার ভ্যাকসিন। ইতিমধ্যেই দেশে গাড়ির বিক্রি বেড়েছে। রেলে বেড়েছে পণ্য চলাচল।
একইসঙ্গে দেশে কমেছে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সংক্রমণের হার ছিল শীর্ষে। তখন একদিনে ৯৭ হাজার মানুষ পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন। এখন সংক্রমণের হার হয়েছে তার অর্ধেক। দেশে করোনায় মোট সংক্রমিতের সংখ্যা এখন প্রায় ৯২ লক্ষ ৭০ হাজার। আমেরিকার পরেই কোভিড অতিমহামারীতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারত।
নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় কয়েকটি রাজ্যে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এর ফলে ব্যবসা ফের ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাড়বে মুদ্রাস্ফীতি। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য কিছুদিন আগেই কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে নতুন প্যাকেজ। তাতে জোর দেওয়া হয়েছে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরির ওপরে।