দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মালব্য বলেন, এখনও পর্যন্ত দেশে ভ্যাকসিনের ৭৫ কোটি ডোজ (75 crore doses) দেওয়া হয়েছে। বর্তমান হারে টিকাকরণ চললে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের জনসংখ্যার ৪৩ শতাংশকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হবে। কেন্দ্রীয় সরকার মনে করে, কোভিডের তৃতীয় ওয়েভকে ঠেকাতে গেলে ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত ৬০ শতাংশ নাগরিককে ভ্যাকসিনের দু'টি ডোজ দিতে হবে।
এর মধ্যে একটি সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, বাচ্চাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হোক, এমনটা চাইছেন দেশের অন্তত ৬৩ শতাংশ বাবা-মা। কোভিশিল্ড বা কোভ্যাকসিন নয়, শিশুদের জন্য ভারতে ছাড়পত্র পেয়েছে জাইদাস ক্যাডিলার ভ্যাকসিন জাইকভ ডি। সূচ না ফুটিয়েই এই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে। তবে ছাড়পত্র পেলেও এখনও ভারতে জাইদাসের ভ্যাকসিন দেওয়া চালু হয়নি।
শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হলে ৬৩ শতাংশ বাবা-মা তাদের টিকাকরণে আগ্রহী, জানা গেছে সমীক্ষার রিপোর্টে। তাঁদের মধ্যে আবার বেশিরভাগই চাইছেন বাচ্চারা ইঞ্জেকশন ছাড়া ভ্যাকসিন পাক।
বাবা-মায়েরা নিজেরা ভ্যাকসিন নেওয়ার পর সন্তানের ভ্যাকসিনেও যে আগ্রহী হচ্ছেন তাতে দেশের টিকাকরণের গতি অনেক বাড়বে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ভ্যাকসিনের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং। তাঁর সিদ্ধান্ত, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ভ্যাকসিনের টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক, আবশ্যিক। স্বাস্থ্যের কারণ বাদে অন্য যে কোনও কারণই হোক, যে কর্মীরা একটিও ভ্যাকসিন নেননি, তাঁদের ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। গত শুক্রবার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্য-পরিসংখ্যান থেকেই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা স্পষ্ট হয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজ্যবাসীকে ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এমন কঠোর পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাছাড়া, যাঁরা ভ্যাকসিন নিয়েছেন, তাঁদের যাতে ভ্যাকসিন নিতে দ্বিধাগ্রস্ত লোকজনের সংস্পর্শে এসে মূল্য দিতে না হয়, সেটা সুনিশ্চিত করাও এর উদ্দেশ্য। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, যাঁরা ভ্যাকসিন এড়িয়ে চলবেন, নিতে চাইবেন না, তাঁদের প্রথম ডোজ নেওয়া পর্যন্ত ছুটিতে যেতে বলা হবে।
রাজ্যের স্কুলের শিক্ষক, অ-শিক্ষক কর্মচারীদেরও, যাঁরা চার সপ্তাহের বেশি সময় আগে একটি ডোজ নিয়েছেন, কাজে ফেরার অনুমতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, যদিও তাঁদের সাপ্তাহিক করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট দেখাতে হবে।
এর মধ্যে জানা যায়, উত্তরপ্রদেশে পঞ্চায়েত ভোটের সময় করোনায় মারা গিয়েছেন ২ হাজারের বেশি ভোটকর্মী। ১৫ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত চার দফায় উত্তরপ্রদেশের পঞ্চায়েত ভোট হয়েছিল। ফল ঘোষণা হয়েছিল ২ মে।
মৃতদের প্রত্যেকের পরিবার পিছু ৩০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। শিগগিরই এই ক্ষতিপূরণের তাকা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যোগী রাজ্যের সরকার। সকলকে ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারের মোট ৬৩৩.২৫ কোটি টাকা খরচ হবে।