দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোভিড ১৯ রুখতে ভারতে লকডাউন জারি হয়েছে ২৪ মার্চ থেকে। ফলে ভারতে আটকে পড়েছেন পাকিস্তানের ১৮০ জন নাগরিক। তাঁদের এবার দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত। পাকিস্তানিদের মধ্যে ৪১ জনকে ফেরত পাঠানো হবে ওয়াঘা-আত্তারি সীমান্ত দিয়ে।
কিছুদিন আগে পাকিস্তানের হাইকমিশন থেকে ভারত সরকারকে জানানো হয়, তাদের ১৮০ জন নাগরিক এদেশে আটকে পড়েছেন। তাঁরা বাড়ি ফিরতে চান। বিদেশমন্ত্রক আটকে পড়া সব বিদেশি নাগরিককেই দেশে ফেরানোর চেষ্টা করছে। একটি সূত্রে খবর, পাকিস্তানিদেরও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশে ফেরানো হবে।
বিদেশমন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব দাম্মু রবি বলেন, যে যে রাজ্যে পাকিস্তানিরা আটকে আছেন, সেখানকার প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, আটক পাকিস্তানিদের ফেরানোর ব্যবস্থা করুন। পাকিস্তানিদের মধ্যে ৪১ জন রয়েছেন দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশে। তাঁরা আগামী ১৬ এপ্রিল সকাল ১০ টার সময় ওয়াঘা-আত্তারি সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফিরবেন। পাকিস্তানের অন্যান্য নাগরিকরা পরে স্থলপথে ফিরবেন স্বদেশে। তাঁদের জন্য গাড়ি দেবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের প্রশাসন।
কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে, পাকিস্তানিদের ফেরত পাঠানোর আগে পরীক্ষা করে দেখতে হবে তাঁরা সুস্থ আছেন কিনা। যাঁদের শরীরে রোগের কোনও লক্ষণ নেই, কেবল তাঁদেরই ফেরত পাঠানো হবে।
পাকিস্তানে বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে মৃত্যু। এই পরিস্থিতিতে চাপে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাক প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। তিনি বলেন, করোনা বিপর্যয়ের মধ্যে ঘুমিয়ে রয়েছে সরকার। ভয়ংকর পরিণতির দিকে হেঁটে চলেছে দেশ।
শেষ পাওয়া হিসেবে পাকিস্তানে ৯৩ জন করোনা আক্রান্ত মারা গিয়েছেন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার পেরিয়েছে। পাকিস্তানের মতো দরিদ্র দেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক চেহারা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২১ কোটি জনসংখ্যার দেশে এখনই যা আক্রান্তের সংখ্যা তা বিপজ্জনক। পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর মানুষ এক জায়গায় বসবাস করেন। ঘনবসতির কারণে করোনার প্রকোপ যে কোনও সময়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান বিলাওয়াল বলেন, এভাবে চললে দেশে মৃত্যু সংখ্যা পশ্চিমী দেশগুলির মতোই দাঁড়াবে। কারণ, পাকিস্তানে ইতিমধ্যেই, হাসপাতালগুলির বেহাল অবস্থা। অথচ সরকার এখনও ঘুমোচ্ছে বলে অভিযোগ পাকিস্তানের বিরোধী নেতা তথা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি।
তিনি জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণের মোকাবিলা হিসেবে শুধুমাত্র লকডাউনের উপরেই ভরসা রাখছে পাক প্রশাসন। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতি ঘটাতে সেই খাতে কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। তেমন কোনও ইচ্ছাই যেন নেই বর্তমান শাসক দলের। এর ফল হবে মারাত্মক।