করোনায় সুস্থতার হার ৫৮ শতাংশের বেশি, মৃত্যুহারও কম ৩%: কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লাখে পৌঁছেছে। একদিনে রেকর্ড সংক্রমণ ১৮ হাজারের বেশি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যাণে যদি করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এবং সুস্থ হয়ে ওঠাদের সংখ্যা পাশাপাশি রাখা যায়, তাহলে দেখা যাবে এখনও
শেষ আপডেট: 26 June 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লাখে পৌঁছেছে। একদিনে রেকর্ড সংক্রমণ ১৮ হাজারের বেশি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যাণে যদি করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এবং সুস্থ হয়ে ওঠাদের সংখ্যা পাশাপাশি রাখা যায়, তাহলে দেখা যাবে এখনও অবধি দেশে ২ লাখ ৯৭ হাজার অর্থাৎ প্রায় তিন লাখের কাছাকাছি মানুষ সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন। আজ, শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষ বর্ধন জানালেন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও সুস্থতার হারও বাড়ছে। তাঁর কথায়, দেশে এখন কোভিড রিকভারি রেট তথা সুস্থতার হার ৫৮ শতাংশের বেশি।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, গত দু’সপ্তাহে সুস্থতার হার একটু একটু করে বেড়েছে দেশে। মৃত্যুহারও কম ৩ শতাংশের কাছাকাছি। করোনায় ডাবলিং রেট অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার সময় ১৯ দিনে পৌঁছেছে। জুনের প্রথমে এই ডাবলিং রেট ছিল ১৫.৪ দিন। সেটা বেড়ে ১৭.৪ দিনে পৌঁছয় গত সপ্তাহেই। অর্থাৎ কোভিড আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছতে ১৭ দিনের মতো সময় লাগছিল। এখন এই ডাবলিং রেট ১৯ দিনে পৌঁছেছে।
https://twitter.com/drharshvardhan/status/1276792435515899905?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1276792435515899905%7Ctwgr%5E&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.indiatoday.in%2Findia%2Fstory%2Findia-s-coronavirus-recovery-rate-mortality-union-health-minister-harsh-vardhan-1693282-2020-06-27
গত ২৫ মার্চ লকডাউন শুরুর সময় এই ডাবলিং রেটই ছিল চিন্তার বিষয়। কেন্দ্রের হিসেবে সেই সময় তিন-চারদিনের মাথাতেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছিল। ফলে সংক্রমণ বৃদ্ধিও হচ্ছিল দ্রুত হারে। লকডাউনের কারণেই এই ডাবলিং রেট আগের থেকে অনেকটাই বেড়েছে।
এদিন টুইট করে হর্ষ বর্ধন জানান, দেশে কোভিড টেস্টিংয়ের সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় দু’লাখের কাছাকাছি করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা যাচ্ছে এবং চিকিৎসায় তাঁরা সেরেও উঠছেন। দেশের সুস্থতার হার তাই বাড়ছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, গতকাল ২৬ জুন অবধি দেশে মোট কোভিড টেস্টিং হয়েছে ৭৯ লক্ষ ৯৬ হাজার ৭০৭টি। শুধুমাত্র গতকালই করোনা পরীক্ষা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজারের কাছাকাছি। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) হিসেবে, রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্ট হয়েছে সবচেয়ে বেশি প্রায় ৪.৭ লাখ। র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টিং হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, কোভিড টেস্ট আরও বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরকারি ল্যাবরেটরির পাশাপাশি বেসরকারি ল্যাবরেটরি ও ক্লিনিকগুলিকেও এই কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৭৩০টি সরকারি ও ২৭০টি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে করোনা পরীক্ষার কাজ চলছে। করোনা পরীক্ষার জন্য আরটি-পিসিআর টেস্ট, অ্যান্টিজেন টেস্টিং, ট্রুন্যাট টেস্টিংয়েই বেশি জোর দিয়েছে আইসিএমআর। দেশের ৫৪৯টি ল্যাবরেটরিতে (৩৫৪টি সরকারি ও ১৯৫টি বেসরকারি) রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর করা হচ্ছে। কোরিয়ান কোম্পানির এসডি বায়োসেন্সেরের থেকে কেনা অ্যান্টিজেন টেস্ট কিটে সংক্রমণ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, টিবি মেশিন ট্রুন্যাট তথা ট্রুন্যাট বিটা-কভ মেশিনে কোভিড টেস্টিং হচ্ছে দেশের ৩৫৯টি ল্যাবরেটরিতে (সরকারি ৩৪১ ও বেসরকারি ১৯৫টি)।