দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত দুটোয় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে কড়া চিঠি পাঠালেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন্ রাজ্য থেকে ফেরানো নিয়ে রাজনীতি করছে যোগী সরকার। এ নিয়ে বাদানুবাদ তুঙ্গে ওঠে। সোমবার গভীর রাতেই হয় চিঠি চালাচালি।
উল্লেখ্য, ১৬ মে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে একটি বিশেষ আবেদন জানিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। পরিযায়ী শ্রমিক বোঝাই ট্রাকে ট্রেলারের ধাক্কায় ২৪ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বিচলিত হয়ে প্রিয়াঙ্কা হাজারটি বাস চালানোর অনুমতি চেয়েছিলেন বিভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনতে।
তিনি আদিত্যনাথকে বলেছিলেন, "শ্রদ্ধেয় মুখ্যমন্ত্রী, আপনার কাছে অনুরোধ এটা রাজনীতির সময় নয়। সীমানায় আমাদের বাস দাঁড়িয়ে আছে। পরিযায়ীরা জল ও খাবার না-পেয়ে প্রচণ্ড কষ্টের মধ্যে দিয়ে হেঁটে তাঁদের বাড়ি ফিরছেন। তাঁদের সাহায্য করুন। আমাদের বাসগুলিকে অনুমতি দিন।"
https://twitter.com/priyankagandhi/status/1261966992723959808
প্রিয়াঙ্কার সেই আবেদন মেনেও নিয়েছিল যোগী আদিত্যনাথ সরকার। সূত্রের খবর, এর পরে সোমবার গভীর রাতে প্রিয়াঙ্কাকে চিঠি পাঠানো হয় উত্তরপ্রদেশ সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিকের তরফে। জানা গেছে, সে চিঠিতে লেখা হয়েছিল, কংগ্রেস যে ১০০০ বাস সীমানায় দাঁড় করিয়ে রেখেছে, সেগুলি যেন ফিটনেস সার্টিফিকেট ও চালকদের লাইসেন্স-সহ মঙ্গলবার সকাল ১০টার মধ্যে লখনউতে পৌঁছে যায়। তার পরে রাজ্য সরকারের তরফে পাঠানো হবে বাসগুলি।
এই চিঠি পেয়েই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে কংগ্রেস। গভীর রাতেই চিঠির জবাব দেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি অভিযোগ করেন, যোগী সরকার এখনও রাজনীতি করছে। বাসগুলি রাজস্থান থেকে এসেছে, সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে সীমানায় দাঁড়িয়ে রয়েছে রওনা দেওয়ার জন্য। এর পরে আবার খালি বাসগুলি লখনউ পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার কী যুক্তি!
যদিও প্রিয়াঙ্কা কংগ্রেসের উদ্যোগে বাস পাঠাতে চেয়ে যে আদতে রাজনীতি করতে শুরু করেছেন, এ অভিযোগ আগেই করেছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি প্রিয়াঙ্কাকে বিঁধে প্রশ্ন করেন, "আপনাদের কাছে যখন হাজারটি বাস ছিলই, তাহলে মহারাষ্ট্র, রাজস্থান থেকে কেন ট্রাকে করে গাদাগাদা শ্রমিককে উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড আর পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হল? ট্রাকে করে ফিরতে গিয়েই মারা গেছেন ২৪ শ্রমিক। কংগ্রেস আর প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কি এই ঘটনার দায় স্বীকার করবে? শুধু টুইটার নয়, বাস্তবেও কাজ করুন প্রিয়াঙ্কা। ওঁর বাসের বিস্তারিত তালিকা আমাদের পাঠান। ”
উল্লেখ্য, করোনার সঙ্কটের মধ্যে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই রাজনীতি করতে ব্যস্ত প্রত্যাশিত ভাবেই। রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, শ্রমিকরা এই রাজনীতির ঘুঁটি ছাড়া কিছু নন। তাঁদের সকলেই কাজে লাগান, কিন্তু সমস্যার সুরাহা করেন না। প্রিয়াঙ্কা নিজে যখন বাসের ব্যবস্থা করেছেন হাজারটি, তাহলে কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলি থেকে শ্রমিকরা নিরাপদে উত্তরপ্রদেশে ফিরতে পারছেন না কেন, এ প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।