
শেষ আপডেট: 12 April 2019 08:04
কোইম্বত্তুরে একসময় ৫০ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ছিল। তারা তাঁত বস্ত্র, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও সোনার গয়না তৈরি করত। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে জিএসটি চালু হয়। তার পরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ৪০ শতাংশ বন্ধ হয়ে যায়।
শিবকুমার নামে কোইম্বত্তুরের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তিনি তিনি একসময় একটি ছোট কারখানার মালিক ছিলেন। তাঁর কারখানায় মোটর পাম্পের যন্ত্রাংশ তৈরি হত। এখন সেই কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তিনি এখন কোইম্বত্তুর হাসপাতালে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করেন। বেতন পান ৮ হাজার টাকা। আগে কারখানার মালিক হিসাবে রোজগার করতেন তার তিনগুণ।
৪১ বছরের শিবকুমার এমন দূরবস্থায় পড়লেন কেন? তিনি জানিয়েছেন, ১৮ শতাংশ হারে জিএসটি চালু হওয়ার পরে তাঁর ব্যবসা উঠে যায়। এখন বিজেপি প্রার্থী বলছেন, জিএসটির হার পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনবেন। কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।
শিবকুমার তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার ভক্ত। তিনি বলেছেন, আমি আম্মাকে মিস করি। আমি আগামী দিনেও এআইএডিএমকে-কে সমর্থন করে যাব। কিন্তু আমি কীভাবে বিজেপিকে সমর্থন করতে পারি। তাদের জন্য আমাদের ব্যবসা শেষ হয়ে গিয়েছে।
তামিলনাড়ুতে এডিএমকে-র সঙ্গে জোট বেঁধেছে বিজেপি। তার বিরোধী ডিএমকে-র সঙ্গে জোট হয়েছে কংগ্রেস ও বামেদের। রাজ্যে ভোট হবে ১৮ এপ্রিল। কোইম্বত্তুরে বরাবর এডিএমকে অথবা ডিএমকে-র কোনও প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। ২০১৪ সালে জয়ললিতা ছিলেন মোদীর বিপক্ষে। তামিলনাড়ুর ভোটারদের বলা হয়েছিল, মোদী অথবা ‘লেডি’, দু’জনের একজনকে বেছে নিতে হবে। ওই স্লোগান দিয়ে তামিলনাড়ুতে বিপুল জয়লাভ করেন জয়ললিতা। রাজ্যের ৩৯ টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৭ টি পেয়েছিল তাঁর দল এডিএমকে। জয়ললিতার মৃত্যুর পরে এডিএমকে-র মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এবার তারা বেশি আসন পাবে বলে মনে করছেন না পর্যবেক্ষকরা।