দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদবের (Mulayam Singh yadav) বাড়িতে গিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের বিজেপি প্রধান স্বতন্ত্রদেব সিং। কিছুদিন আগে প্রয়াত হয়েছেন বিজেপি নেতা কল্যাণ সিং। মঙ্গলবার লখনউতে প্রয়াত নেতার স্মরণসভা হয়। বিজেপি জানিয়েছে, সেই সভায় মুলায়মকে আমন্ত্রণ জানাতে গিয়েছিলেন স্বতন্ত্র। কিন্তু মুলায়মের বাড়িতে রাজ্যের বিজেপি প্রধানের যাওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। পর্যবেক্ষকদের মতে, ওবিসি ভোট ব্যাঙ্কের দিকে নজর রেখেই মুলায়মের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি।
মুলায়মের ছেলে তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব কল্যাণ সিং-এর মৃত্যুতে শোক জানাননি। তাই তাঁর সমালোচনা করেছিল বিজেপি। অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির তরফে বলা হয়েছে, স্বতন্ত্রদেব সিং-এর সঙ্গে বিজেপির দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। তাঁকে সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশ জুড়ে প্রয়াত কল্যাণ সিং-এর স্মরণে ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি সভা’ করে বিজেপি। অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার সময় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কল্যাণ সিং। একইসঙ্গে তিনি ছিলেন প্রভাবশালী ওবিসি নেতা। আগামী বছরে বিধানসভা ভোট হবে উত্তরপ্রদেশে। তার আগে অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণির ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে চাইছে বিজেপি। কল্যাণ সিং-এর মৃত্যুর পরে অখিলেশ শোকবার্তা না পাঠানোয় তাঁকে ‘ওবিসি বিরোধী’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে গৈরিক ব্রিগেড।
মুলায়মের সঙ্গে দেখা করার পরে স্বতন্ত্র দেব তাঁদের দু’জনের ছবি টুইট করেন। তারপরে লেখেন, তিনি ‘নেতাজির’ আশীর্বাদ চাইতে গিয়েছিলেন। মুলায়মের দীর্ঘ জীবন কামনা করেন তিনি। পরে সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্রের একটি টুইটকে রিটুইট করেন স্বতন্ত্র। সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র বলেছিলেন, “নেতাজি স্বতন্ত্রকে বলেছেন, আপনি সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দিন। বিজেপিতে দলিত ও পশ্চাৎপদরা গুরুত্ব পান না। সেজন্য স্বতন্ত্র অসন্তুষ্ট হয়েছেন।” সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র মনীশ জগন আগরওয়াল বলেছেন, “স্বতন্ত্র নিছক সৌজন্যের খাতিরে নেতাজির বাড়িতে যাননি।”
স্বতন্ত্রদেব পরে বলেন, “শ্রদ্ধাঞ্জলি দিবসের সভায় আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমি সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতার বাড়িতে গিয়েছিলাম। আমি বিএসপি প্রধান মায়াবতীকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তিনি সতীশ মিশ্রকে পাঠিয়েছিলেন।” পরে স্বতন্ত্র বলেন, ৪০ টিরও বেশি দল কল্যাণ সিং-কে মহান নেতা বলে স্বীকার করেছে। কল্যাণ সিং মনে করেন, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের আমলে উত্তরপ্রদেশে দলিত ও বঞ্চিতরা শান্তিতে থাকতে পারছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সারা দেশেই দলিতদের নিরাপত্তার দিকে নজর রেখেছেন।