দ্য ওয়াল ব্যুরো : সরকারের সঙ্গে গত কয়েকমাস ধরে দ্বন্দ্ব চলছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের। সেই আবহেই সোমবার মুম্বইয়ে বৈঠকে বসেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বোর্ড। বোর্ডে আছেন সরকারের প্রতিনিধিরাও। তাঁদের সঙ্গে উর্জিত প্যাটেল ও অপর বোর্ড সদস্যদের তুমুল তর্ক হবে বলে অনেকের ধারণা। পরিস্থিতির সুযোগ নিতে ইতিমধ্যে ঝাঁপিয়েছে কংগ্রেস। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মিটিং শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইট করে বলেছেন, আশা করি গভর্নর উর্জিত প্যাটেল মেরুদণ্ড সিধে রাখবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বুঝিয়ে দেবেন, তাঁর অধিকার কতখানি।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কর্তাদের দাবি, সরকার নিজের অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করে তাঁদের কাজে হস্তক্ষেপ করছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক একটি স্বশাসিত সংস্থা । সরকার চায় তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে। কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটের আগে বিপুল পরিমাণে দানখয়রাত করতে চায় সরকার। সেজন্য তারা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের থেকে ১ লক্ষ কোটি টাকা চেয়েছে। ব্যাঙ্ক দিতে রাজি না হওয়াতেই শুরু হয়েছে গোলমাল। সরকারের উদ্দেশ্য, যে করেই হোক, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তহবিল নিজের নাগালে নিয়ে আসা।
রবিবার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম টুইট করেন, সরকার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ৯ লক্ষ কোটি টাকার তহবিল নিজের হাতে পেতে চায়। সেজন্য নানা বিষয়ে ব্যাঙ্কের সঙ্গে ঝগড়া লাগিয়ে রেখেছে। ১৯ নভেম্বর রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যে বোর্ড মিটিং-এ বসবে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওই দিনই ঠিক হবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক স্বশাসন বজায় রাখতে পারবে কিনা।
সোমবার রাহুল টুইটে বলেছেন, মোদী ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা যে প্রতিষ্ঠানে হাত দেবেন, তাই ধবংস হয়ে যাবে। সোমবার তাঁর হাতের পুতুলরা মিটিং-এ বসে আর বি আইকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালাবে। আমি আশা করি, উর্জিত প্যাটেল মেরুদণ্ড সিধে রাখবেন।
https://twitter.com/RahulGandhi/status/1064387123158093825
বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার চায়, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তার সঞ্চিত অর্থের এক তৃতীয়াংশ তাদের দিয়ে দিক। অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, আমরা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের থেকে টাকা চাইনি। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাঙ্কে কী পরিমাণ পুঁজি থাকা উচিত, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। কেন্দ্রে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত সচিব সুভাষ চন্দ্র গর্গ বলেছেন, সরকার এখন এমন সংকটে পড়েনি যে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের থেকে টাকা চাওয়ার প্রয়োজন হবে।
কংগ্রেসের অভিযোগ, সরকার চায় উর্জিত প্যাটেল ইস্তফা দিন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বীরাপ্পা মৈলি বলেছেন, উর্জিত প্যাটেল যদি সত্যিই ইস্তফা দেন, তা হলে খুবই দুঃখের ব্যাপার হবে। দেশের অর্থনীতি তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।